Rupali Bangladesh
শীর্ষ প্রতিবেদন সারাদেশ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড সাতব্রিজ বাজারে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে, দিনভর অভিযান#দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

হরিণাকুণ্ড (ঝিনাইদহ)সংবাদদাতাঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার সাতব্রিজ বাজারে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন গতকাল দিনভর অভিযান পরিচালনা করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিকে সেচ প্রকল্পের রামনগর সাতব্রিজ সেকসন অফিস ঘিরে চতুর্দিকে শতাধিক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠন, আবাসিক স্থাপনা ও ক্লাব গঠে উঠে। আজ হতে ৪২ বছর পূর্ব থেকে দিনেদিনে ওয়াপদার জায়গা দখল করে এ সকল অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাহেরহুদা,জোড়াদাহ এবং ফলসী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের নাগরিকগণ এ সকল বানিজ্যক প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসী, ইলেট্রনিক, কম্পিউটার, মুদি, ভূমি মাল, সার সিমেন্ট রড,গবাদি-ফিসারী ও পোল্টিফিড, ট্রেইলার, ভাংড়ী, ফল, খড়ি ও স্যেনেটারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সরকারী নদী-খাল দখলকরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষনা প্রদান করেন। এ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঝিনাইদহ জেলা সদরের পর হরিণাকুণ্ডতে সোমবার নির্বাহী ম্যাজিট্রেট জিন্নতুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সৈয়দা নাফিস সুলতানা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট অনিমেষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে দিনভর সাতব্রিজ বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ মাইকিং করে উক্ত বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামালসহ তাদের নিমিত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহববান জানানো হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এই আহবানে সাড়াদিয়ে ৯৫শতাংশ ব্যাবসায়ী তাদের মালামালসহ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেয়।বাজার সংলগ্ন আকবর টাওয়ারের সামনে স্থাপিত সুপার মার্কেটটি ভাঙ্গার মধ্যদিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের সূচনা হয়। মার্কেটসহ আকবর টাওয়ার নামক বহুতল ভবনের একটি অংশ ভাঙ্গার সময় শতশত নারী পুরুষ বাজার সংলগ্ন এলাকাতে ভিড় জমায়। এসময় ওয়াপদা ক্যাম্পাসে জ্বালানী খড়ি ও স্যানেটারী সামগ্রির রাখার দায়ে পন্যদুটির মালিক যথাক্রমে শহিদুল ইসলাম মিয়া ও সাহাবুদ্দনিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একশত টাকা জরিমানা ও তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজেট্রেট জিনাœতুল ইসলাম। জোড়াদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, বাজারটিতে তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের জনসাধারণের শতাধিক ব্যাবস্য প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করায় কোটিধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। এদিকে বাজার কমিটির সভাপতি নিজামউদ্দীন মেম্বর বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যাবসায়িদের সরকার পূর্ণাবাসনের উদ্দ্যোগ নিলে কিছুটা হলেও তাঁরা পরিবার পরিজন নিয়ে দুমুঠো ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানারউদ্দীন বলেন,উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়িদের পূর্ণাবাসনা করা না হলে এলাকাটিতে হাহাকার বিরাজ করবে। সেই সাথে সামাজিক অস্তিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার আংশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়াও যারা সরকারী নদী-খাল দখলকরে অবৈধভাবে মৎস্যচাষ করছে অবিলম্বে সে সকল অবৈধ মৎস্য চাষিদেরকে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সৈয়দা নাফিস সুলতানা।

Related posts

বৃহস্পতিতে কী আপনার ভাগ্যে রয়েছে লক্ষ্মীলাভ? দেখুন রাশিফল

siteadmin

বাংলাদেশ না পারলেও ভারত যেভাবে পারছে

siteadmin

আবরারের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রিট#দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

News Desk

Leave a Comment