Rupali Bangladesh
শীর্ষ প্রতিবেদন সারাদেশ

টঙ্গীতে ভুয়া এমএলএম কোম্পানির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ৩২ প্রতারক আটক# দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

শামিম হোসেনঃ গাজীপুরের টঙ্গী মধুমিতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ভুয়া এমএলএম কোম্পানির সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৩২ সদস্যকে আটক করেছেন র‌্যাব-১১ সদস্যরা। চক্রের মূল হোতা আলতাবুর রহমানসহ আটকদের টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করে মামলা রজু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রতারণার শিকার ৭৩ ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, কাউসার নামে এক ভুক্তভোগী যুবক র‌্যাবের কাছে ওই কোম্পানির অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। পরে আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। প্রতারণার শিকার শরীফ, আল আমিনসহ অন্যরা জানান, ওই এমএলএম কোম্পানি মাসিক কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা তিনটি ভিন্ন প্যাকেজে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করে। পরে প্রশিক্ষণের নামে কয়েক সপ্তাহ কালক্ষেপণ করে। প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেককে নতুন দুজন সদস্য সংগ্রহের শর্ত প্রদান করে। নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দিলে সংগৃহীত টাকার সামান্য কমিশন প্রদান করে। নতুন সদস্য দিতে না পারলে বিভিন্ন কৌশলে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে খালি স্ট্যাম্প এবং আপসনামায় জোর করে সই নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকদের দ্বারা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনও করে থাকে। লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ওই কার্যালয় থেকে ৪০টি মোবাইল, একটি ডেস্কটপ, বিপুল পরিমাণ ভুয়া ভর্তি ফরম, নিয়ম ও শর্তাবলি ফরম, পণ্য ক্রয়ের ভাউচার, আপসনামা, অঙ্গীকারনামা, সাপ্তাহিক হিসাব রেজিস্টার, স্পন্সর নোট রেজিস্টার, টাকা জমার রশিদ, স্ট্যাম্প, হাজিরা বই ও পণ্য সরবরাহের চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়।
এমএলএম বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে বহুমুখী ও বহুস্তর পণ্য বিপণন পদ্ধতি। মূলত মধ্যস্বত্ব ভুগীদের বাদ রেখে সরাসরি কাস্টমারের কাছে পণ্য বিক্রয় করে এর লাভের একটা অংশ পুনরায় ক্রেতার কাছে ফেরত দেওয়ার জন্যই এমএলএম এর জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশে জিজিএন বা গ্লোাবাল গার্ডিয়ান নেটওয়ার্ক ও টিসি বা টং চং নামের দুটি কোম্পানির মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে এমএলএম এর জন্ম। দেশে বহুস্তর বিপণন (এমএলএম) পদ্ধতির সব কোম্পানিই এখন বেআইনি। সরকার লাইসেন্স দিয়েছে, এমন একটিও এমএলএম কোম্পানি আর বর্তমানে নেই। এমএলএম পদ্ধতিতে কেউ ব্যবসা করলে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আর সাধারণ মানুষ এই ব্যবসায় জডড়িয়ে পড়লে নিশ্চিতভাবেই তাঁরা ঠকবেন । বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (রেজসকো) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেণ। রেজসকো দায়িত্ব নিয়েই ২০১৪ সালের ৫ মার্চ এক বছরের জন্য চার কোম্পানিকে এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করার লাইসেন্স দেয় । কোম্পানিগুলো হচ্ছে এমএক্সএন মডার্ন হারবাল ফুড, ওয়ার্ল্ডভিশন ২১, স্বাধীন অনলাইন পাবলিক লিমিটেড ও রিচ বিজনেস সিস্টেম। এদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে সরকার। কোম্পানিগুলো লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করলেও রেজসকো নবায়ন করেনি। কোম্পানি চারটি শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে জানা গেছে। রেজসকোর কর্মকর্তারা জানান, লাইসেন্স দেওয়া হয়নি, তাই কোনো কোম্পানিই এই পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন গ্রাহক তৈরি করতে পারবে না। বানিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে অবস্তুগত বা অলীক পণ্য, স্থাবর সম্পপত্তি, ফ্যাট ও প্লট বিক্রয়, কমিশন বা বোনাস হিসেবে কোনোরূপ শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয়, বোনাস স্কিম, কিস্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বা সঞ্চয় বা বিলিবণ্টন এমনকি লটারির টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া প্লাটিনাম, স্বর্ণ, ব্রোঞ্জ, পারদ, হাইড্রো কার্বন, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, ¯পর্শকাতর রাসায়নিক পদার্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক, ধাতব মুদ্রা, অশ্লীল ছবির ফিল্ম, সিডি, ভিসিডি; উগ্র মৌলবাদী বই, ফিল্ম, সিডি, ভিসিডি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী বা ধর্ম বিকৃতকারী বই বা প্রচারপত্র,কেচিং বানিজ্য, শিক্ষামুলক কোচিং/ ট্রেনিং, ফিল্ম, সিডি ও ভিসিডি বিপণন নিষিদ্ধ। এসব পণ্য ও সেবা বিপণন করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত করা হবে। পণ্য বাজারজাতকরণের আগে সরকার নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য ও সেবার গুণগত মানের সনদ, পণ্যের গায়ে উৎপাদান, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ, মূল্য ইত্যাদি প্রকাশের বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরণ আইন ও প্রচলিত অন্যান্য আইন মেনে চলতে হবে। তারপরও কি ভাবে এই লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মত চক্ররা জনসাধারনকে সর্বসান্ত করে। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কি ভাবে ফ্যাট ,প্লট ও জমি বিক্রয় বিক্রয়ের মত প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

Related posts

আজ ‘জাতীয় যুব দিবস’

siteadmin

শপথ নেবেন না মির্জা ফখরুল #দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

News Desk

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ভয় পায়: ইরান#দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

News Desk

Leave a Comment