Rupali Bangladesh
আইন-অপরাধ শীর্ষ প্রতিবেদন

নুসরাত হত্যা: ওসি’র মামলা তদন্ত করবে পিবিআই

স্টাফ রিপোর্টার : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র বিরুদ্ধে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করার নির্দেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। সেই সাথে চলতি মাসের (এপ্রিল) ৩০ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন সোমবার এই আদেশ দেন।

শ্লীলতাহানির অভিযোগে নুসরাত জাহান রাফি সোনগাজী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন ও ভিডিও ধারণ করেন। যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দেন।

এমন অভিযোগ এনে সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে একটি মামরা দায়ের করেন।

আদালতে দেওয়া মামলার বাদির জবানবন্দিতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আগুনের পুড়ে নুসরাত জাহানকে হত্যা করার ঘটনাটি বাংলাদেশে আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর আসামীসহ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওসি মোয়াজ্জেম তাকে জেরা করেন। সেই সাথে জেরা করার সময় তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। যা নুসরাত মারা যাওয়ার পরের দিন ১১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘থানার ভেতর নিজের রুমে ওসি সাহেব এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। থানার ভেতরে এমন ভিডিও ধারণ করা ও সম্প্রচার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। এই ঘটনার পরে ভিকটিম বেঁচে গেলেও, বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে যেতে।’

তিনি আরো বলেন, ভিডিওটি গত ১১ এপ্রিল ইউটিউবে দেখতে পাই। অশ্লীল কিছু তথ্য ধারণ করে ইউটিউব/সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভিকটিমের মানহানিও হয়েছে।’

মামলার এজাহারে থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে থানায় নিয়ে যায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। সেখানে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা করতে থাকে। ওই জেরার সময় ভিডিও ধারণ করেন। তখন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় প্রশ্ন করে নুসরাতকে।

একপর্যায়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ওই ভিকটিমের বুকে হাত দিয়েও শ্লীলতাহানিও করে। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যা করেছেন, তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের এমন ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা মামলাটি দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এর জেরে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা।

পরবর্তীতে চলতি মাসের ১০ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই নুসরাতের হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়।

Related posts

মন্ত্রী হলে কি একথা বলতেন, মেননকে প্রশ্ন কাদেরের#দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ

News Desk

১০ সদস্যের উপদেষ্টা সরকারের প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের

siteadmin

মনোনয়ন ফরম কিনলেন প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার

siteadmin

Leave a Comment