শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫
লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ, ক্যাটাগরি বদল

মূলধন সংকটে রানার অটোস

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৪, ০৭:৫৮ পিএম

মূলধন সংকটে রানার অটোস

ফাইল ছবি

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার ২০২২’ পুরস্কার পাওয়া রানার অটোমোবাইলস পিএলসি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। ২০২১-২২ হিসাব বছরে ঘোষিত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানির ক্যাটাগরি স্থানান্তর করেছে পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানির শেয়ার এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরীতে লেনদেন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

কোম্পানির চলতি মূলধনের সংকটের কারণে উদ্যোক্তা পরিচালকদের লভ্যাংশ যথাসময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকেও কোম্পানির লোকসান হয়েছে ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।  

চলতি মূলধনের সংকটের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে লভ্যাংশ প্রদানে সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে অনুমোদন করেনি বিএসইসি। অন্যদিকে শাস্তি হিসেবে ‘জেড’ ক্যাটাগরীতে স্থানান্তর করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সর্বশেষ অর্থবছরে পণ্য বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল বাজারজাতকারী কোম্পানিটি এখন মূলধন সংকটে ভুগছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। যার ফলে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। ফলে পণ্য বিক্রিতে ধস ও উচ্চ সুদজনিত ব্যয় কোম্পানিটিকে বড় লোকসানে পথে নিয়ে যায়।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার ২০২২’ গ্রহণ করেন রানার অটোমোবাইলস পিএলসির চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। সেই কোম্পানি ঘোষিত ১০ শতাংশ লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

তাদের অনেকে বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে নানা সুবিধা নিয়েছে রানার অটোমোবাইলস কর্তৃপক্ষ। এখন তারা বিনিয়োগের লভ্যাংশ ফেরত দিতে না পারার কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে কমিশনকে খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন।

রানার অটোমোবাইলস এ থেকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়ে বুধবার থেকে শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ৪ টাকা ৩১ পয়সা। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৬ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬২ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৬ টাকা ৫০ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৭০ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬৬ টাকা ৫০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬৫ টাকা ১৬ পয়সা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে রানার অটোমোবাইলসের ৬৬২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে; যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ১১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে বিক্রি কমেছে ৪৪৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বা ৪০ শতাংশ।

কোম্পানিটির ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ব্যয় হয়েছিল ৭৪৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ছিল বিক্রির ৬৭ শতাংশ; যেখানে গ্রস প্রফিট বা মোট মুনাফা হয়েছিল ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আর গত অর্থবছরের বিক্রির বিপরীতে ৬৮ শতাংশ হারে উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৪৫১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা; সেখানে গ্রস প্রফিট হয়েছে ২১১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে গ্রস প্রফিট কমেছে ১৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ।

আরবি/জেআই

Link copied!