ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫

দেড় হাজার কোটির প্রকল্প ভেস্তে গেল

স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০২:১৪ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে প্রায় দুই বছর আগে উদ্বোধন হয় ৭৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গড়ে ওঠা হাসপাতালটিতে রয়েছে পাঁচতারকা মানের সব অবকাঠামোগত সুবিধা। 

১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি পুরোপুরি শেষ করতে খরচ হয় ১ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। যা পুরোটাই ব্যর্থ বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। 

প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগীর সেবার লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি তৈরি হলেও দিনে একশজন রোগীও আসছে না এখানে সেবা নিতে। নেই নিজস্ব কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও। 

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের নিয়োগ বাতিল করা হলেও নতুন করে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সেবা পেতে রোগীদের বেগ পেতে হচ্ছে। দিনের বেলাতেই বিশাল হাসপাতালটিতে প্রবেশ করলে মনে হয় ভূতুরে কোনো স্থাপনায় প্রবেশ করা হয়েছে। 

রোগীদের দাবি, পরিবর্তিত সরকার অন্তত এই স্থাপনাটির দিকে নজর দেবে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সরকার যেন এটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত করে নেয়। 

জানা যায়, বিশাল এই হাসপাতালটির অর্থায়ন করেছে কোরিয়ান কোম্পানি। এর মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ, পরামর্শ ব্যয়, যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ অন্যান্য বাবদ ১ হাজার ৪৭ কোটি ঋণ দেয় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল এক্সিম ব্যাংক। 

কোরিয়া থেকে যন্ত্রপাতি আনতে কাস্টমস ডিউটি ও ইনকাম টেক্স বাবদ ৩৩৮ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। হাসপাতাল নির্মাণের জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মূল্য ধরা হয় ১৭০ কোটি টাকা। সেন্টার বেইজড এই হাসপাতালটির সব যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোম্পানি স্যামসাং। 

কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ প্রতিটি যন্ত্রপাতি আমদানিতে কমিশন নিয়েছে দাবি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটির এক কর্মী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নামে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হলেও মূলত এটি সাবেক উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদের নিজস্ব আখের গোছানোর প্রকল্প নামেই বেশি পরিচিত। 

এই হাসপাতাল থেকে এমন কোনো বাণিজ্য নেই যা শারফুদ্দিন আহমেদ করেননি। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্য। টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সামান্য আয়া পর্যন্ত নিয়োগ করতে তিনি লাখ টাকার ওপর ঘুষ নিয়েছেন। নিজের আত্মীয়স্বজনকে বসিয়েছেন পছন্দের জায়গায়। 

তবে সম্প্রতি ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মীদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিনের একক ক্ষমতায় চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মেডিকেল অফিসার, কনসালটেন্ট, সিনিয়র স্টাফনার্সসহ প্রায় এক হাজার প্রার্থী। 

যাদের সবার নিয়োগ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তৃতীয় দফায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশের ভিত্তিতে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতালটির ৪র্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, দুই একজন নার্সের পোশাক পরা ছাড়া আর কোনো জনমানব নেই। তবে  নিচ তলায় ফার্মেসি, ক্যান্টিন, দুই তলায় বিশেষজ্ঞদের চেম্বারের সামনে কিছু রোগীর আনাগোনা রয়েছে। 

তিন দশমিক আট একর (প্রায় ১২ বিঘা) জমির ওপর গড়ে ওঠা এই হাসপাতালের মনোরম অবকাঠামো যেকোনো মানুষেরই চোখে আরাম দেবে। বিশাল এই অবকাঠামোতে দিনে অন্তত পাঁচ হাজার রোগীর সমাগম থাকার কথা থাকলেও প্রতিদিন রোগী হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দুইশজন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসক নেই একজনও। 

একই চিকিৎসক বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালে ৩০ টাকা এবং বৈকালিক চেম্বারে ২০০ টাকা ফি নিলেও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাকে দেখাতে গেলে দিতে হয় এক হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় চিকিৎসক এখানে দেখালেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য রোগীকে বিএসএমএমইউর প্যাথলজি বিভাগেই যেতে হয়। 

রোগীদের যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয় এবং দেশেই রোগীরা লিভার, কিডনি, হার্টের রোগ, ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, জয়েন্ট নী রিপ্লেসমেন্টসহ সব ধরনের জটিল রোগের সর্বাধুনিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পায় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই হাসপাতালে। 

স্টেম সেল থেরাপি, জিন থেরাপির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোবটিক সার্জারিও শিগগিরই চালু করা হবে। হাসপাতালটিতে রয়েছে বিশ্বমানের এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, আইসিইউসহ সব ধরনের আইসিইউ ব্যবস্থা।

 এ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার আইসিইউ, জরুরি বিভাগে আছে একশটি শয্যা, আছে ভিভিআইপি কেবিন ৬টি, ভিআইপি কেবিন ২২টি এবং ডিলাক্স শয্যা ২৫টি। সেন্টারভিত্তিক প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে আটটি করে শয্যা। 

হাসপাতালটিতে রয়েছে নিউম্যাটিক টিউব, যার মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের পর অটোমেটিক্যালি নির্দেশিত বিভাগে চলে যায়, যা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। 

কিন্তু কোনো বিভাগেই নিজস্ব জনবল না থাকায় প্রায় সব সেবাই ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি দিনের পর দিন অব্যবহৃত থাকায় এসব যন্ত্রপাতির অনেকই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটির এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হাসপাতালটি পরিচালনা করতে ১৮০০ জনবল প্রয়োজন। 

কিন্তু এখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় আশানুরূপ রোগীর সমাগম হয় না। হাসপাতালটির ভিআইপি কেবিন তো দূরে থাক সাধারণ কেবিনেও কোনো রোগী নেই জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে একটা কেবিন পাওয়ার জন্য মানুষের হাহাকার লেগেই থাকে। 

প্রয়োজনে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের মানুষেরও সুপারিশ নিতে হয়। কিন্তু এখানে এতসব সুবিধা সত্ত্বেও রোগী আসছে না। এর একমাত্র কারণ জনবল সংকট। জনবল নিয়োগ না হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। 

হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা কার্যক্রম না থাকলেও এখানে রয়েছে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড সেন্টার। যেখানে মা ও শিশু সম্পর্কিত সব ধরনের রোগ এবং সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। 

একইভাবে হেপাটাইটিস, গ্যাস্ট্রোলজি সম্পর্কিত সব রোগেরই চিকিৎসা পাওয়া যাবে হেপাটোবিলিয়ারি এবং গেস্ট্রোএন্ট্রোলজি সেন্টারে। আর এক্সিডেন্টাল ইমার্জেন্সি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে সবার জন্য। যেকোনো দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে এখানে। রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ১০০টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহীনুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, তদন্তে আমরা পূর্ববর্তী রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেছি। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা, অনিয়মের সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছি। 

যেখানে কল রেকর্ড ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ছিল, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছিল, পেনড্রাইভে প্রশ্ন নেওয়া অভিযুক্ত চিকিৎসকের মিষ্টি বিতরণের ছবিসহ আরও অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করেছি। 

সবমিলিয়ে তদন্ত কমিটির প্রত্যেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমরা নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের সুপারিশ করেছি। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই আমরা এ কার্যক্রম শুরু করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যে প্রশাসন এসেছে, আমরা চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। 

ইতিমধ্যে আমরা বিগত সময়ের সব দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদের ওপর হামলা ঘটনায় তদন্ত করে মামলা করেছি। 

এ ছাড়াও নিয়োগবাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারবাজি-এগুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন বেশকিছু তদন্ত কমিটি করেছে। এমনকি সেগুলোর তদন্ত রিপোর্ট একের পর এক আমাদের হাতে আসতে শুরু করেছে। এসবের ওপর নির্ভর করে আমাদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।  

নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ড. শারফুদ্দিনের সময়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়োগ বাণিজ্য এবং পরীক্ষায় অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলো নিয়ে পরবর্তী ভিসির (দীন মো. নূরুল হক) সময়েই দুটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল।

 প্রথম তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও দ্বিতীয় তদন্তে অস্পষ্টতা আছে বলে জানানো হয়। তাই আমরা এসেই নতুন করে আবারও তদন্ত কমিটি গঠন করি। সেই তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে আজ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে এবং আমরা তাদের সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩ জুলাই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে ৫২ পদে ৫৪৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পদগুলোর মধ্যে কনসালট্যান্ট পদে ৯৬ জন, মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিকস) পদে ৬০ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ২২৫ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়। 

এ ছাড়াও এই বিজ্ঞপ্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ), পরিচালক (আইটি), টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্টসহ সবমিলিয়ে ৫৪৪ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৮ ক্যাটাগরির পদে ৪র্থ থেকে ৯ম গ্রেডে ১৭২ জন জনবল নিয়োগে পুনর্বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। 

এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার হিসেবে ৬৮টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা চাওয়া হয় বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত এমবিবিএস বা সমমান ডিগ্রি এবং বিএমডিসি কর্তৃক স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত। 

তাদের সবার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। দুই দফায় তদন্ত শেষে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসন আবারও তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন, তথ্য-প্রমাণসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে এবং অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত বড় অনিয়ম আর হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন হলে সব সিন্ডিকেট সদস্যও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটির অবকাঠামো উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরেরই ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুপার এর ১৪টি বিভাগে রোগী দেখা শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা (অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক)। তবে এদের কেউই এই হাসপাতালে সরাসরি নিয়োগকৃত নন। বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরাই শিডিউলভিত্তিক সেবাদান শুরু করেন।