শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

মাংসের দামে স্বস্তি, কমেনি সবজির উত্তাপ

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০৯:২৬ এএম

মাংসের দামে স্বস্তি, কমেনি সবজির উত্তাপ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম কারওয়ান বাজারে প্রতি শুক্রবার অন্যদিনের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড়টা একটু বেশি থাকে। সবজি থেকে মাছ বাজার, এমনকি ফলের দোকানগুলোতেও ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।

কিন্তু ঈদের পর শুক্রবারটা ছিল ভিন্ন। অনেকটাই ফাঁকা ছিল কারওয়ান বাজার। বেশির ভাগ দোকানপাট ছিল বন্ধ। তবে শুধু এই বাজারই নয়, রাজধানীর শান্তিনগর, নিউমার্কেটসহ অন্য কাঁচাবাজারগুলোর প্রায় একই চিত্র। এদিকে ক্রেতার চাহিদা কমায় মুরগি ও গরুর মাংসের দাম যেমন কমেছে, তেমনি বাজারে সরবরাহ কমায় কিছু কিছু সবজির দাম বেড়েছে। 

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও শান্তিনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে ঈদের পরের নিত্যপণ্যের বাজারের এ চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের বন্ধের কারণে অনেক মানুষ এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। আবার অনেক ব্যবসায়ীও ঈদ করতে দেশের বাড়ি গেছেন। সবমিলিয়ে বাজারে কেনাবেচা কম।

 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। কিছু কিছু সবজি দেখে মনে হয়, এগুলো টাটকা নয়, দুই-এক দিন আগের। তবে সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে কাঁচামরিচ, পেঁপে, টমেটোর দাম বেড়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও গতকাল তা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচের কেজিতেও ২০ টাকা বেড়ে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের পর চাহিদা কমলেও এখনো লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। এ ছাড়া, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়েত এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈদের পর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। কিন্তু একই সঙ্গে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে।

ফলে দামটা একটু বাড়তি। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লে দামটাও কমে আসবে বলে আশা করছি। এদিকে সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কমেছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ঈদের আগে ২৪০ টাকায় উঠেছিল। ব্রয়লারের পাশাপাশি সোনালি মুরগির দামও কমেছে।

কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে গতকাল তা ২৮০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় গরুর মাংসের দাম বাড়লেও এখন তা কমেছে। গতকাল রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ ঈদের আগে চাঁদ রাতে প্রতি কেজি গরুর মাংস রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে ৮৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

দাম বেড়েছে মাছের। ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীর বাজারে চাষের মাছের সরবরাহ কমায় এই দাম বৃদ্ধি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কই ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই, কাতল আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, কোরাল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, শোল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ ঈদের আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

 

আরবি/শিতি

Link copied!