তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে গিয়ে। বন্ধুত্বের টানে দূর থেকে ঢাকায় হয়েছিল একসঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু সেটিই কাল হয়ে এল তাদের জীবনে। তারা একসঙ্গে করল মৃত্যুযাত্রা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর কালশী নতুন রাস্তা ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই কিশোরের মৃত্যু ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা ওই দুই লাশ শনাক্ত করেন তাদের স্বজনরা।
স্বজনদের কথায় উঠে আসে, নিহত রিয়াদ (১৬) ও তোফাজ্জল (১৭) দুইজন বন্ধু ছিল। তাদের তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে।
ইসিবি চত্বরের একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তোফাজ্জল। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার মাওরা গ্রামে। তার বাবার নাম রেনু মিয়া। পরিবারের সঙ্গে মানিকদি বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো সে। তার বাবা মানিকদি বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন।মাঝেমাঝে বাবার দোকানে বসতো সে।
অন্যদিকে রিয়াদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার হামান কুদ্দি গ্রামে। রিয়াদের বাবা বিল্লাল কাজী দুবাই প্রবাসী। রিয়াদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়তো।
তোফাজ্জলের বড় ভাই মো. নাঈম বলেন, ‘মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে রিয়াদের সঙ্গে তোফাজ্জলের পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। সেই বন্ধুত্বের কারণেই গত বৃহস্পতিবার তোফাজ্জলের সাথে দেখা করতে আসে রিয়াদ।’
‘গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় রিয়াদকে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় বেড়াতে বের হয়েছিল তোফাজ্জল। এ সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল তোফাজ্জল। পরে মিরপুর কালশী ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় তারা মারা যায়। এতে রিয়াদ ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে যায় ও তোফাজ্জল ছিটকে পড়ে ফ্লাইওভারে।’
রিয়াদের মামাতো ভাই মো. রাসেল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সে বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যায়। আজ সকালে জানতে পারি সে দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে তোফাজ্জলের সঙ্গে পরিচয় হয় রিয়াদের।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিরপুর ১২ কালশী নতুন রাস্তা ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের লাশ শনাক্ত করেছে পরিবার। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া দুটি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কাজ চলছে।’
আপনার মতামত লিখুন :