বরগুনায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, দেশের কল্যান ও মানুষের কল্যানের জন্য ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি। কিন্তু আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পর যারা ৫৩ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে তাদের মধ্যে দেশের কল্যান, মানুষের কল্যান হয় আমরা দেখি নাই। বরং আমরা দেখেছি হাজার হাজার, লাখ লাখ মায়ের কোল খালি হয়েছে। বাপ সন্তান হারা হয়ে তাদের কলিজা থেকে পোড়া গন্ধ বেড় হয়েছে। ৫৩ বছরে আমরা পেয়েছি চোরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থান। যারা এই দেশ শাসন করেছে তাদের কাছ থেকে নতুন কিছু পাওয়া অসম্ভব কথা। এর পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে। গত ৫ আগষ্টের পর আমি সারাদেশ ঘুরে বুঝতে পেরেছি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আর সেই পরিবর্তনটা চায় ইসলামের পক্ষে।
বরগুনা আবুল হোসেন ঈদগাহ মাঠের জনসভায় তিনি আরো বলেন, ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে কপালে সিঁদুর পরে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিল। আমরা দেখেছি ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় দিবস পালন করি অথচ ভারত বিজয় দিবস পালন করে। ভারত একবারও বলে নাই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তারা বলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ভারত বিজয় লাভ করেছে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে থাকবে বন্ধুত সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্ক ধরে রাখতে পারছি না। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের লক্ষ লক্ষ লোক পঙ্গু হয়েছে, জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। অথচ ভারত আমাদের সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনার সম্পদ নিয়ে গেছে। গত ৫৩ বছরে ভারতের যত কার্যক্রম ছিল সব ছিল নিজেদের স্বার্থে। বাংলাদেশের স্বার্থে কোন কাজ করে নাই। তাহলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ত সম্পর্ক কিভাবে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগের লোকজন ভোট দিতে পারে নাই। তারা দিনের ভোট রাতেই বাক্সে ভরে ফেলেছে। রাতে বাক্স ভরলে ভোট কিভাবে দেবে। শেখ হাসিনা সংসদকে পাশ কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করে ভারতকে ট্রানজিট উপহার দিয়ে আসছে। সেই চুক্তিতে আমাদের পৌনে দুইশো কিলোমিটার ব্যবহার করবে অথচ আমরা তাদের মধ্যে কোন সড়ক ব্যবহার করতে পারবোনা। পাশের দেশ ভুটানের সঙ্গে ১৮ কিলোমিটার দুরত্ব সেই ট্রানজিট বারবার চাওয়ার পরেও ভারত আমাদের দেয় নাই। পানি চুক্তির নামে দেশকে মরুভূমি করেছে।
নির্বাচন নিয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন দেশের যে নির্বাচন পদ্ধতি রয়েছে আমরা তার পরিবর্তন চেয়েছি। সারাবিশ্বের মধ্যে ৯১ টি দেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। সেই পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে। ভোটের সংখ্যা গরিষ্ঠ আনুপাতিক হারে সরকার গঠন করতে হবে। এই ভাবে নির্বাচন হলে সংসদে ফ্যাসিস্ট তৈরি হবেনা।
জনসভায় অন্য অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, বরগুনা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহামুদুল হাসান ওয়ালীউল্লাহ সহ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে আগামী দুই বছরের জন্য বরগুনা জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী সভাপতি ও মাওলানা আবদুস শাকুরের নাম ঘোষণা করে শপথ পাঠ করানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :