অসুস্থ চাচাকে দেখতে এসে প্রাণ হারালেন ভারতী রানি সরকার (৪০)। ভারতীর চাচা বিমল সরকার ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুমূর্ষু ওই রোগীকে দেখতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ভারতী। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পা হারিয়েছেন অসুস্থ বিমল সরকারের ছেলে বাধন সরকার (২৫)।
ভারতী রানি সরকার ফরিদপুরের সদরপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা বলরাম সরকারের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলের মা। তার বাবা মৃত নীরব সরকারের বাড়ি নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের সন্তোষী গ্রামে।
দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছাউনির নিচে কয়েকজন মানুষ বসে আছেন। সবার চোখ-মুখে বিষণ্ণতা। কারও চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। এখানেই কথা হয় ভারতী রানি সরকারের চাচাতো ভাই বিপ্লব সরকারের সঙ্গে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত বিপ্লবের বাবাকে দেখতেই ভারতী রানি ফরিদপুর আসছিলেন।
বিপ্লব সরকার বলেন, আমার অসুস্থ বাবাকে দেখতে আজ সকালে নগরকান্দার মহিলা রোড স্ট্যান্ড থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসে ওঠেন চাচি ভারতী সরকার ও ভাই বাধন সরকার (২৫)। কিন্তু তাদের আর রোগী দেখা হলো না।
তিনি আরও বলেন, এ মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। আজ আমি চাচিকে হারালাম, ভাই পা হারিয়েছে। একটি তরুণ জীবন শুরু করবে তার আগেই ছন্দপতন ঘটে গেল।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাধন সরকার জানান, বাসটি তালমার মহিলা রোড থেকে ছাড়ার পর বেপরোয়া গতিতে চলতে শুরু করে। যাত্রীরা বারবার বলার পরও বাসচালক কারও কথা শোনেনি। চালকের জন্যই আজ এ দুর্ঘটনা।
প্রসঙ্গত, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা এলাকায় শরিফ জুট মিলের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিহত ও ৩২ জন আহত হন।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন বাসের গতি ৮০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ছিল। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :