অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে বাইকের নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ায় দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’।
পুলিশ ও গনমাধ্যমের তথ্য বলছে, গেল ৬ মাসে শরীয়তপুরে ছোট বড় অন্তত ২৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে মটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিলো ১৭ টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন, আহত শতাধিক।
শরীয়তপুরের সড়ক মহাসড়কে মটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর ও তরুণরা। ফলে বেড়েই চলছে দুর্ঘটনা, সড়কে ঝড়ছে তাজা প্রান। ট্রাফিক আইন না মানা, তরুণ বাইকারদের বেপরোয়া গতি সহ নানান কারণে ঘটছে প্রাণ হানির ঘটনা। অপ্রাপ্ত বয়সীদের হাতে মোটরটসাইকেল তুলে না দিতে অবিভাবকদের অনুরোধ করেছেন জেলা পুলিশ।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর হওয়ার পর যানবাহনের চাপ বেড়েছে এ জেলায়। খানা খন্দে ভরা জেলার অধিকাংশ সরু সড়কে কিশোর ও তরুন বাইকাররা রেস খেলতে গিয়ে বেপরোয়া বাইক চালানোর কারণে বারছে দুর্ঘটনার সংখ্যা।
চলতি মাসের ৩ নভেম্বর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ২ মটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রান হারায় ৪ কিশোর। নিহত প্রত্যেকের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর।
পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার শিকার বাইকের ছিলোনা রেজিষ্ট্রেশন, চালকদেরও ছিলোনা ড্রাইভিং লাইসেন্স। কারও মাথায় ছিলোনা হেলমেট। সিসিটিভি ফুটেজ বলছে বেপরোয়া গতির কারণেই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ঘটে প্রানহানির ঘটনা।
নিহতদের একজন নাবিল আহমেদ। এবছর জাজিরা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিলো। এছাড়াও দুর্ঘটনায় নিহত আরমান ঢালী ও সায়েমও এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। নিহত ভ্যান চালক খিদিরের আয়েই সংসার চলতো পরিবারের। প্রিয় সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
নিহতদের স্বজনরা বলছেন, অল্প বয়সের ছেলেরা পরিবার কে জিম্মি করে মোটরসাইকেল কিনতে বাধ্য করায়। তারপর বেপরোয়া গতির জন্য দিয়ে দেয় প্রাণটাই।
নিহত পরিবারের সজনদের দাবি, তাদের সজন হারিয়েছে আর কারও সজন যেন না হারাতে হয় তাই সকলে তাদের সন্তানদের বাঁচাতে হলেও মোটরসাইকেল অল্পবয়সে যেন না দেন। এবং প্রশাসনকে কঠোর আইন প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন তারা।
নিপারপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি এডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে বাইকের নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ায় দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
প্রভাষক তাইজুল ইসলাম বলেন, এখন শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজের চেয়ে বাইরে সময় বেশি কাটায় অল্প বয়সে মোটরসাইকেল হাতে পাওয়াতে। এরপর শুরু হয় তাদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। পরে লেখা পড়া না করে হয়ে ওঠে বখাটে।
তিনি সকল অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন তাদের সন্তানকে লেখা পড়ার প্রতি চাপ প্রয়োগ করেন। এবং অল্প বয়সে মোটরসাইকেল কিনে না দেন।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের হাতে মোটরসাইকেল দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :