রাজধানীর টঙ্গীতে জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে শুরায়ে নেজাম (মাওলানা জুবায়ের অনুসারী) ও মাওলানা সাদ অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাদ অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করেছে। মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের উস্কানীতে সংঘর্ষ হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছেন সাদপন্থীরা।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ইজতেমা ময়দানে সংবাদ সম্মেলনে সাদ অনুসারী মুয়াজ বিন নূর তার বক্তব্য এ কথা বলেন। এসময় সাদ অনুসারীদের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে নূর বলেন, সারাদেশ থেকে আমাদের সাথীরা ইজতেমা ময়দানের তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থান নেয়। রাত ২টার পর ইজতেমা ময়দান থেকে জুবায়ের অনুসারীরা মশাল হাতে নিয়ে আমাদের সাথীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এরপর জুবায়ের অনুসারীরা ময়দান ছেড়ে গেলে আমাদের সাথীরা ময়দানে প্রবেশ করেন। বর্তমানে আমাদের এক লাখ সাথী ময়দানে আছে এবং ময়দানের পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে রয়েছে। সংঘর্ষে হতাহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সঠিক সংখ্যা বলতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদেরকে দিয়াবাড়ি মাঠে জোড় ইজতেমা করতে বলেছিল। আমরা সেখানে করতে পারব না কারণ লোকসমাগম সংকুলান হবে না। তাই আজ (বুধবার) সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা ছিল। এই আলোচনায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ময়দানে আসতাম। কিন্তু গতরাতে জুবায়ের অনুসারীদের উস্কানীতে সৃষ্ট সংঘর্ষে ময়দান আমাদের কাছে চলে আসে।
সাদ অনুসারীদের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম বলেন, আমাদের তিনজন সাথী নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আহতদের সঠিক সংখ্যা পরে জানানো হবে।
এদিকে, শুরায়ে নেজাম (জুবায়ের অনুসারীরা) মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আমাদের তিনজন সাথী মারা গেছেন। তবে হাসপাতাল সূত্রে নিহতের সংখ্যা তিনজন বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার এগারসিন্দু এলাকার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু (৭০) ও ঢাকা জেলার দক্ষিণখান থানার বেরাইদ এলাকার বেলাল (৬০), বগুড়া জেলার তাইজুল ইসলাম (৬৫)।
এদিকে ইজতেমা ময়দান এখন সাদ অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশসহ মাঠ পর্যায়ে থাকা সকল বাহিনীর প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য মোতায়েন আছে।