টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষা সফরের ৪টি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার নেটিজেন ফেসবুকে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না দাবি করে শিক্ষা সফরে দূরে যাওয়া থেকে বর্জনের ডাক দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উচ্চ-বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে চারটি বাসে করে শিক্ষা সফরে নাটোরের একটি পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লক্ষণের বাধ এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষা সফরের বাস চারটি ডাকাতির কবলে পড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করার পর পুলিশ এলে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এরপর থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি সামনে আসে এবং ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠে।
ডাকাতির সময় বাসগুলোতে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুঠোফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে সড়কে গাছ ফেলে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় সোয়াইতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) ঘাটাইল থানায় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর সকাল থেকে ফেসবুকে ডাকাতির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল না। এমন মুহুর্তে দুরে শিক্ষা সফরের বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা।
নেটিজেনদের কিছু ফেসবুক পোষ্ট তুলে ধরা হলো, গৌরীপুর হেল্পলাইন নামক একটি পেজে বলা হয়, স্কুলের পিকনিকের গাড়িতে ডাকাতি, অতি দূরে শিক্ষা সফর বর্জন করুন। ফুলবাড়িয়া সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পিকনিকের গাড়িতে রাত ৪ টার সময় ৪ টি বাসে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা টাকা পয়সা সোনা অলংকার, মোবাইল, মানিবেগ ও মূল্যবান জিনিস লোটপাট করে নিয়ে যায়।গৌরীপুরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বর্তমানে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না। শিক্ষা সফরে দূরে যাওয়া বর্জন করুন ধন্যবাদ।
তারাকান্দা উপজেলা নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোষ্ট করা হয়। স্কুলের পিকনিকের গাড়িতে ডাকাতি, অতি দূরে শিক্ষা সফর বর্জন করুন। ফুলবাড়িয়া সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পিকনিকের গাড়িতে রাত ৪ টার সময় ৪ টি বাসে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা টাকা পয়সা সোনা অলংকার, মোবাইল, মানিবেগ ও মূল্যবান জিনিস লোটপাট করে নিয়ে যায়। তারাকান্দার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বর্তমানে দেশের আইণ শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না। শিক্ষা সফরে দূরে যাওয়া বর্জন করুন ধন্যবাদ।
এমন হাজারো পোষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব পোষ্টে জেলাজুড়ে সকল উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর যেন দুরে কোথাও না করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
সুত্র জানায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে চারটি বাসে করে শিক্ষা সফরে রওনা হয়েছিল। গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে স্কুল চত্বর থেকে তাঁদের চারটি বাস ছেড়ে যায়। তাঁরা নাটোরের গ্রিনভ্যালি পার্কের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এরপর ভোর সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষা সফরের বাস ৪টি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লক্ষণের বাধ এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দলের কবলে পড়ে। এসময় গজারি বনের ভেতর দিয়ে চলা ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের পাশ থেকে একটি গাছ কেটে রাস্তা আটকে দেন ডাকাত দলের সদস্যরা।
ডাকাতির কবলে পড়া চারটি বাসের প্রথমটিতে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, রাতে চারটি বাস রওনা দিয়ে সাগরদীঘি এলাকায় গজারি বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ রাস্তায় একটি গাছ পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় বাসের গতি কমিয়ে দিলে হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল হামলে পড়ে, সবার হাতেই ধারালো দেশীয় অস্ত্র। সবাই খুব ভয় পেয়ে যাই। ডাকাত দলের সদস্যরা পেছনের বাস থেকে মালামাল লুট শুরু করেন। এর মধ্যে আমরা ৯৯৯-এ ফোন করি। ডাকাত দলের সদস্যরা পেছনের তিনটি বাস থেকে ১০টি স্মার্টফোন, একটি হাতঘড়ি, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও দেড় ভরির মতো স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ চলে আসায় ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যান।
খলিলুর রহমান আরও বলেন, পুলিশ আসার পর বিস্তারিত ঘটনা শুনে যাঁদের মুঠোফোন নিয়ে গেছে, তাঁদের নম্বরগুলো নিয়ে গেছে। ওই সময় অনেকে ফেরত যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু শিক্ষার্থীরা আনন্দ করার জন্য যাচ্ছিল, অনেকের অনুরোধে আমরা পিকনিক স্পটে যাই।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ডাকাতির কবলে পড়ায় শিক্ষার্থীরা প্রচুর ভয় পেয়েছে। ডাকাতেরা চালকদের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে গেছে। মারধর করেছে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও।
এবিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। শিক্ষাসফর শেষে ডাকাতির কবলে পড়ে। যে সড়কটি ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি উপজেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে। এই সড়কের অধিকাংশ এলাকা গহিন বন। ডাকাত দলের সদস্যরা ইলেকট্রিক করাত দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে গাড়ি আটকে দেয়। এই সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলাচলও করে বেশি। বেশ কয়েক বছর এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গহিন বনের কারণে পুলিশি তৎপরতা চালানো চ্যালেঞ্জিং জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি গ্রুপটিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির কবলে পড়া শিক্ষাসফরের দলটির আল্লাহর অশেষ রহমতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দূরে কোথাও শিক্ষাসফরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হবে। যেতে ও ফিরতে রাত হয়, এমন কোনো স্পট বাছাই না করার জন্য শিক্ষকদের বলা হবে।
এবিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আখতারুল আলমের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. নাছির উদ্দিন বলেন, আগে কোন শিক্ষা সফরের বাসে ডাকাতি হয়েছে, এমন ঘটনা শুনিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন অবশ্যই প্রতিষ্ঠান থেকে আশপাশে সফরের আয়োজন করে। তাছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেব।
আপনার মতামত লিখুন :