ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকারের টালমাটাল নাচের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এমন বিতর্কিত নাচের ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক সুশান্ত সরকার একটি গানের তালে তালে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নাচানাচি করছেন। আর তাকে ঘিরে বিদ্যালয়ের একদল ছাত্রীরা হৈ-হুল্লোড় করে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নাচানাচি করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নাটোরের গ্রীণ ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে যায়। ওই দিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে শিক্ষক সুশান্ত সরকার বিদ্যালয়ের একদল ছাত্রী নিয়ে গান বাজিয়ে টালমাটাল অঙ্গভঙ্গিতে নাচানাচি করেন। পরবর্তীতে অশালীন অঙ্গভঙ্গির এমন নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয়। সচেতন মহলের কেউ কেউ ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ওনার জ্ঞান বুদ্ধি একটু কম আছে।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. আবুল খায়ের বলেন, শিক্ষক হচ্ছে পিতার সমতুল্য। শিক্ষা সফরে গিয়ে ছাত্রীদের আনন্দ দেওয়ার জন্য মার্জিত গানের সঙ্গে তিনি নাচতেই পারেন। এটা দোষের কিছু দেখি না। তবে গানটি নির্বাচনে তার ভুল ছিল।
নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ বলেন, নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে নেচেছেন নগরকান্দার ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার। বিষয়টি নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছেন। শিক্ষকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যারা সমালোচনা করছেন, শিক্ষকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন তাদের একটা কথা মনে রাখা উচিত, ভাইরাল হওয়া ভিডিও শিক্ষা সফরের, ক্লাস রুমের নয়।
বিষয়টি নিয়ে ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার বলেন, আমি একটু সংস্কৃতিমনা মানুষ। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নাচানাচি করিনি। তবে এভাবে নাচানাচি করা আমার ঠিক হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :