চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিব চতুদর্শী মেলার দ্বিতীয় দিনে চন্দ্রনাথ ধামে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে দুইজন নারীসহ তিন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ও দুপুর ১টায় পৃথক সময়ে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পুরুষের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত পুরুষ ব্যক্তির নাম বান্টু লাল দাস (৫৫)। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায়। তিনি উপজেলার উত্তরবুনিয়া ইউনিয়নের ফাসিয়াখালি এলাকার মৃত মাগন দাসের ছেলে।
তবে নিহত দুই নারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের একজনের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। অপরজনের বয়স ১৮ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম।
জানা গেছে, সকাল ১০টা ১১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে তিথি (লগ্ন) শুরু হয়েছে। থাকবে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ড পর্যন্ত।
এই সময়ে ১০-১২ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে চন্দ্রনাথ ধামে। এ তিথিকে ঘিরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পুণ্যার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে তিনজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়।
সকাল ১০টার দিকে এক তরুণী পদদলিত হয়ে মারা যান। তার মরদেহ স্বজনরা নিয়ে যান। পরে দুপুর ১টার দিকে বান্টু লাল দাস ও অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী পদদলিত হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে।
নিহত বান্টু দাসের স্ত্রী লক্ষ্মী বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে আমার স্বামী পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।’
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রচণ্ড ভিড়ে তিন পুণ্যার্থী মারা যান। তার মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী। একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও দুই নারীর পরিচয় জানা যায়নি।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে তিন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’