সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫, ০৪:৩৫ পিএম

সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামলকে (৪২) তার সহযোগী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুলকে রাজধানীর একটি বাসা থেকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।

আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গুড্ডিমারি এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে। সে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাতীবান্ধা  উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানা ও রংপুর মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার সহযোগী কামরুল হাসান (৩২) পাটগ্রাম উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জয় বাংলা ব্রিগেড এর সক্রিয় সদস্য। কামরুল লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সরদার পাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার রাতে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের  ওসি সাদ আহমেদের নেতৃত্বে  ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ ০২ ও ধানমন্ডি থানার সোবাহানবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গত ০৫ আগস্ট এর এরপর থেকে আটক আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল ও তার সহযোগী কামরুল বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে আওয়ামী সরকারকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এর সাহায্যে জনমত গড়ে তোলাসহ দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তারা ফেসবুক গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ, ইউটিউব চ্যানেল এবং জুম প্লাটফর্মে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে পলাতক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে এনে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করার চেষ্টা করছিল।

তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সারাদেশের আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং ফেসবুকে  সমর্থকদের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রুপের সাথে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা তথা জনশৃঙ্খলার ক্ষতিকর কার্যসহ বর্তমান বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণাবোধ সৃষ্টি এমনকি জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিপ্রায়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করতে তাদের কর্মী বাহিনীকে সংগঠিত করে আসছে।

এ ব্যাপারে লালমনিহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিল হান্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ ০২ এবং ধানমন্ডি থানাধীন সোবাহানবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃত শ্যামল ও তার সহযোগী ০৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর স্থানে আত্মগোপনে থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা জনমত গড়ে তোলাসহ দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তাদের নামে হাতীবান্ধা ও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

আরবি/জেডআর

Link copied!