ফেনী সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কবির আহমাদকে সম্মান জানাতে দীর্ঘক্ষণ রৌদ্রের মাঝে দাড়িয়ে রাখায় ৩ শিক্ষার্থী হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ এনামুল হক খোন্দকার বলেন, প্রধান অতিথিকে সম্মান জানাতে শিক্ষার্থীদের দাড় করানো হয়নি। বরং ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় কুচকাওয়াজ, শপথ বাক্য পাঠ ও সংক্ষিপ্ত ভাষনের জন্য সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের পাইলট স্কুল মাঠে দাড় করানো হয়েছে। তন্মধ্যে ৩ জন একটু অসুস্থ হয়েছে, এটা তেমন কিছু নয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফেনী সরকারি কলেজ। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কবির আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত রোদের মাঝে ফেনী পাইলট বিদ্যালয়ে মাঠে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তিন শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আহত ৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোভার স্কাউট সদস্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বিবেক কুলসুম প্রিয়ার নাম জানা গেছে। বাকি অজ্ঞান আরেকজন শিক্ষার্থীর নাম নিশ্চিত করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদেরকে ইনকোর্স পরীক্ষা আছে বলে নোটিশ দিয়ে কলেজে নিয়ে আসা হয়। পরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আমাদেরকে সকাল থেকেই রৌদ্রের মাঝে এনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও শিক্ষাঙ্গন থেকে এসব বৈষম্য এখনো দূর করা যায়নি। আমরা আইন বিরোধী এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে ফেনী সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে অতিথি কে অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড় করানো হয়নি। তাদেরকে মাঠে কুচকাওয়াজ এবং শপথ গ্রহণ, সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের জন্য দাঁড় করানো হয়েছিল। ১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে তিনজন সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এটি তেমন কোন বিষয় নয়।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় না করাতে গত ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সংবর্ধিত অথবা পরিদর্শনকারী ব্যক্তির জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না।
আপনার মতামত লিখুন :