রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

বরিশালে বিএনপির ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম

বরিশালে বিএনপির ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ

ফাইল ছবি

বরিশালে টেন্ডারসন্ত্রাসে জড়িত বিএনপির ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শাস্তিস্বরূপ তাদের সবার দলীয় সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

এ সংক্রান্তে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালে এসেছে।

বিষয়টি বরিশাল মহানগর বিএনরি সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বালুমহল ইজারাকে কেন্দ্র করে জনৈক সেনাসদস্যকে অপহরণ-মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ রাঢ়ী, হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন (৪২), বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নুর হোসেন সুজন (৩৫), হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার (৩৫), মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোটেল রিচমার্টের মালিকানা অংশীদার বেলায়েত হোসেন, মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম, মহানগর ছাত্রদল নেতা রুবেল এবং গণপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহিদের সাংগঠনিক পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে এই ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় ডাকসারির বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের ২০ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন চাঁদপুরের মতলবের যুবদল নেতা আব্দুল মতিন কাজী।

গত মঙ্গলবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হিজলার বালুমহল ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ এবং সেনাসদস্য অপহরণ পরবর্তী মামলার প্রেক্ষাপটে বাদী আব্দুল মতিন কাজীকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি এডিট করে ছেড়ে দিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মতবল বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, আব্দুল মতিন মতলব উপজেলা যুবদলের (উত্তর) প্রচার সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে একাধিক মামলায় হয়রানি হওয়াসহ বহুবার কারাবরণও করেছেন।

চাঁদপুর যুবদল নেতা মতিন রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সেনাবাহিনীতে কর্মরত এমন একজন সদস্য নিয়ে তিনি গত মঙ্গলবার বরিশালে আসেন। এবং হিজলার বালুমহল ইজারার সিডিউল জমা দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে সেনাসদস্যকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে শহরের লঞ্চঘাটস্থ বরিশাল মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক বেলায়েত হোসেনের রিচমার্ট আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে মারধর করেন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী সাথে সাথে হোটেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে এবং হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এই ঘটনায় বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার বিকেলে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন চাঁদপুর যুবদল নেতা মতিন।

অপহরণ এবং মারধরের শিকার সেনা সদস্য তার আপন ভাতিজা জানিয়েছে ঘটনার বর্ণনায় মতিন বলেন, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও অভিযুক্ত বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রকৌশলী মাহফুজুল আলম মিঠু, বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ রাঢ়ী, ছাত্রদল নেতা রুবেল, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোটেল রিচমার্টের মালিকানা অংশীদার বেলায়েত হোসেন, গণপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহিদ, মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিজামুর রহমান নিজাম এবং কামরুল পলাতক রয়েছেন। 

তবে বৃহস্পতিবার হাইকমান্ড থেকে ৮ নেতাকর্মীর পদ স্থগিতের নির্দেশনা মতিনকে স্বস্তি দিলেও টেনশন কমছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে বেশ অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযুক্তরাসহ তাদের কর্মীরা।

টেন্ডারসন্ত্রাসে জড়িতদের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সন্ত্রাস করার কোনো সুযোগ নেই।

কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান রিমু জানান, বালুমহলের টেন্ডার নিয়ে সেনা সদস্যকে অপহরণ এবং মারধরের ঘটনায় হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

ওসি জানান, এই মামলাটিতে অন্তত ২০ জন অভিযুক্ত রয়েছেন, তাদের সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে মাঠপুলিশ কাজ করছে।’

আরবি/আবু

Link copied!