ঈদের দিন সবকিছুই নতুন চাই। কেবল জামা জুতো নয়। এ তালিকায় আছে টুপিও। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ইতোমধ্যে জামা-জুতো কেনা প্রায় শেষ। তাই এবার সবাই ভিড় করছেন টুপির দোকানে। এদিকে ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় নানা রঙ ও ডিজাইনের টুপি দিয়ে দোকান সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।
সেখানে দেশীয় তৈরি টুপির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত টুপিও আছে। আছে দেশে তৈরি বিদেশি টুপির রেপ্লিকাও। তবে এসবের মধ্যে এবার দেশীয় টুপির চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। কেবল টুপি নয়। শেষ মুহূর্তে ভিড় বেড়েছে ঈদ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ আতরের দোকানেও।
সবসময় বিভিন্ন পারফিউম ব্যবহার করলেও ঈদের দিনের সুগন্ধি হিসেবে আতরই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই টুপির সঙ্গে কিনছেন আতরও। আতরের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের আতর। এবার স্প্রে করা যায় এমন আতর তরুণদের পছন্দের শীর্ষে আছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বাখুর`ও কিনছেন অনেকে। এরাবিয়ান সংস্কৃতির বাখুর ঘরে সুগন্ধ ছড়ায়।
আতর-টুপি কিনতে অবশ্য ক্রেতাদের খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না। কারণ আতর ও টুপি একই দোকানে বিক্রি হয়। নারায়নগঞ্জে আতর-টুপি বিকিকিনির জন্য অধিক পরিচিত চিটাগাংরোড মিনার মসজিদ মার্কেট। শহরের কালীর বাজারেও রয়েছে অনেক দোকান। এছাড়া রাস্তাঘাটেও অনেকে ফেরি করে বিক্রি করে টুপি।
ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের প্রসিদ্ধ মসজদিগুলোর সামনে টুপির পসরা সাজিয়ে বসেন অনেকে। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন টুপি ও আতরের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রি হওয়া টুপির মধ্যে আছে বাংলাদেশে তৈরি নেপালি, পকিস্তানি, ইন্দোনেশিয়ান ভিআইপি, পাকিস্তানি কাশ্মীরি হ্যান্ডমেইড ডিজাইন টুপির রেপ্লিকা পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিকৃত টুপির মধ্যে আছে পকিস্তানি, মালয়েশিয়ান, গুজরাটি, তাজিকিস্তান, স্টার আফগানী টুপি। এছাড়া আব্বাসী, ফিরোজি ও নুরানী টুপি, পাকিস্তানি হাতের বানানো, পাকিস্তানি নরমাল টুপি, পাকিস্তানি গর্জিয়াস, ইন্ডিয়ান বগিস, ইন্ডিয়ান মুম্বাই টুপি, গুজরাটি, ইন্দোনেশিয়ান টুপি, তুর্কিস টুপি, রুমি ক্যাপ, অটোম্যান টুপি, হাতে তৈরি কাশ্মীরি ডিজাইন, বগিস বিক্রি হচ্ছে।
দেশিয় তৈরি টুপির মধ্যে আছে জালি টুপি, হাতে বোনা জালি টুপি, বাংলা খেজুর পাতা ডিজাইন, বাংলা ভিআইপি টুপি, বাংলা চুমকি উচু টুপি ও ঝিকঝাক টুপি। আছে নানা ডিজাইনের বাচ্চাদের টুপি।
এদিকে আতরের দোকানে দেখা গেছে, ভারতের আজমল ব্র্যান্ড এবং আল হারমাইন ব্র্যান্ডের আতরের পাশাপাশি সুরাতি, আমীর আল উদ, এসআচ আল আরাবিয়া, দালাল, সুলতান, মাস্কাল কাবা, নাফা কাস্তুরী, সুইটস মাসকাল তাহারা, উদ, আবদুস সামাদ কোরাইশী, শাফাঘ উদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, আমির আল কুয়াদিরাজা`সহ বিভিন্ন নামের আতর বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মাস্কাল কাবা প্রতি ৩ এমএল ৯০০ থেকে ১৮০০ টাকা, নাফা কাস্তুরী প্রতি ৩ এমএল এক হাজার টাকা, সুইটস মাসকাল তাহারা প্রতি ৩ এমএল ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের সিলেট থেকে আসা অর্গানিক অয়েল বা আতর। যেটা সিলেটি উদ নামেও পরিচিত।
আপনার মতামত লিখুন :