ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৫

ইমামের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা, মুসল্লিদের বিক্ষোভ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৫, ০৭:১৬ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইমামের ওপর হামলার প্রতিবাদে মসজিদের সামনের সড়কে বিক্ষোভ চলছে- ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের ইমামের ওপর হামলা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসময় বেধরক মারধুর ও তার দাড়ি টেনে ছিঁড়ে দিলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বলেও জানা যায়।

ওই ইমামের নাম হাফেজ মো. ওলিয়ার রহমান। তিনি বোয়ালমারীর দাদপুর ইউনিয়নের নাগদী গ্রামের উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করেন।

ওই ঘটনার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।

 

শনিবার (২৯মার্চ) দুপুরে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

এতে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয়রা জানান,  পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই ইমামের কয়েক বিঘা জমি ১৫-১৬ বছর ধরে জোর করে ভোগ করে আসছিলেন দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান এবং তার ভাই ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল মাতুব্বর ও বাকেয়ার মাতুব্বরসহ তাদের সহযোগীরা।

সম্প্রতি আমিন এনে জমি মাপা শেষে দেখা যায়, প্রকৃত জমির মালিক হাফেজ ওলিয়ার রহমান। এ সময় দখলদারদের জমি ছেড়ে দিতে বললে সুগন্ধি মাঠের মধ্যে ওলিয়ার রহমানের ওপর হামলা করা হয়।

তারা ইমামের মুখের দাড়ি ধরে টানা-হেঁচড়া ও বেধরক মারধুর করেন।

এ সময় জিয়ার, বাকিয়ার ও বিল্লাল মাতুব্বর তার মুখের দাড়ি ও শরীরের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলে।

তাদের বেধড়ক মারধরে রোজাদার ওই ইমাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এ সময় স্থানীয়রা ইমামকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে।

সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়ি আনা হয়। এখনো তিনি ঠিকমতো চলাফেরা ও দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছেন না।

বিষয়টি শিকার করেন আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান।

‘ভুল বুঝা-বুঝি করে নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না’, বলেন তিনি।

বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’