সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভেসে গেছে ছোট বড় অসংখ্য পুকুর ও অসংখ্য চিংড়ি ঘের, পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ধানের ক্ষেত। ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মাছ।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় শত শত এলাকাবাসী হাতে হাত দিয়ে ছয় দফা দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
স্বেচ্ছাসেবক মূলক সংগঠন আলোর পথের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নূরুন্নবীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ৬ দফা দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব বিল্লাহ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রমজান আলী, উপদেষ্টা শাহাবুদ্দিন হোসেন, মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, কবি ও সাহিত্যিক হেলাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এখন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের ঘর-বাড়ি, জমি, স্বপ্ন—সবকিছুই আজ ধ্বংসের মুখে। এই নদী আমাদের প্রাণ। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বেড়িবাঁধ ভাঙার সুযোগ সৃষ্টি করে, যাতে তারা ত্রাণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে পারে।
বক্তারা আরও জানায়, অসাধু মানুষ দুর্ভোগকে নিজেদের মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত করেছে। আজ যখন আমরা নদীর পানিতে সর্বস্ব হারাচ্ছি, কেউ কেউ ত্রাণের ব্যাগ গুনছে।
তারা বলেন, খোলপেটুয়া নদীতে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, বাজেটের সিটিজেন চার্টার দিতে হবে।
এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) সেনাবাহিনী সকালে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি পরিদর্শন করে মেরামতের কাজ শুরু করেন। পরে নদীর জোয়ার শুরু হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আগামী রোববার (৬ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেরামতের কাজ শুরু হবে।
আপনার মতামত লিখুন :