সম্প্রতি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চুনতি এলাকায় ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ।
কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিপূর্ণ ও রুট পারমিটবিহীন বাসসহ সব ধরণের অবৈধ যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩রা এপ্রিল) দুপুর ১২ টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কক্সবাজার পর্যটন শহরের কলাতলি, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রামু বাইপাস ফুটবল চত্বর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অবৈধ যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, অবৈধ পার্কিংসহ আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ১৪ মামলায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বেশ কিছু গাড়ি জব্দও করা হয়।
অভিযানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজীব, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এফএম খাইরুল হক, কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক উথায়নু চৌধুরী ও ম্যাকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট মো. ইউছুপ এ অভিযানে অংশ নেন ।
বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ও ধারাবাহিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানান, সড়ক-মহাসড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর জোর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।
সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ওভারটেকিং, ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ যানবাহন এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দায়ী করেছেন তিনি।
কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক উথায়নু চৌধুরী জানান, ফিটনেসবিহীন মোটরযান ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল সড়ক-মহাসড়কে চলাচল, মোটরযানের অতিরিক্ত গতি এবং মালবাহী গাড়িতে যাত্রী বহন ইত্যাদি অনিয়মের কারণে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অভিযান জোরদারের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি ।
অভিযানে অংশ নেওয়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এফএম খাইরুল হক বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা ব্যাপী অভিযানে ১৪ টি মামলায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনার রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।