শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫

বাগমারায় গ্রাম্য সালিশে লম্পটের জরিমানার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম

বাগমারায় গ্রাম্য সালিশে লম্পটের জরিমানার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা

প্রতীকী ছবি

রাজশাহী বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালী গ্রামে এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে বণ্টন করা হয়।

জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ (রবিবার) রাতে একই গ্রামের ব্যক্তি মোজাহার আলীর গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

ঘটনার পরদিন, ঈদের দিন, গৃহবধূর স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে ছুটির কারণে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাতে গ্রামে সালিশ বসে। সালিশে ইউপি সদস্য আমানুল্লাহসহ স্থানীয় মাতব্বর শমসের আলী, আবু সাঈদ, আলা হোসেন ও আবেদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। এরপর মাতব্বরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জরিমানার অর্থ নিম্নলিখিতভাবে বণ্টন করা হয়, 

অভিযোগকারী পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা। 

স্থানীয় মসজিদে ২ হাজার টাকা। 

৩ হাজার টাকায় মিষ্টি বিতরণ।

এছাড়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়। পুনরায় এমন ঘটনা ঘটালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার শর্ত রাখা হয়।

গ্রাম্য সালিশে এমন অপরাধের বিচার করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। সালিশে উপস্থিত ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছিলেন তবে বিস্তারিত জানেন না।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘ধর্ষণের চেষ্টার মতো ঘটনায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে আপসের সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরবি/আবু

Link copied!