জামালপুর সদরে বিএনপির কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক।
জামালপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী একদল অনুসারী নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এ বিনিময়কালে একপর্যায়ে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র দেখান এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দেন।
পরে বৃহস্পতিবার এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সিরাজুল হককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তার ডান হাতে একটি পিস্তল।
এ সময় পিস্তলটি বারবার উপর দিকে প্রদর্শন করেন তিনি। এবং তাকে বলতে শোনা যায়, আমার ফাঁসি হলে হবে। আমি ফাঁসি মেনে নেবো। তাও গাদ্দারকে মেরে ফেলবো।
ঘটনার পরপরই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘দলের ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম জানান, এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই। কারণ বিষয়টি তিনি ভালোভাবে জানেন না। বিষয়টি জানার পর কথা বলবেন।
এ বিষয়ে সিরাজুল হক জানান, অফিসের ভাড়া চাইতে গেলে আমার ছেলে বাবুকে মারধর করা হয়। তাই আমি আমার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করতে যাই। আমি খালি হাতে যাব কেন? ওরা আমার বড় ছেলেকে মেরেছে। আমার বাবার জমি দখল করে পার্টি অফিস করেছে। এক কোটি বিশ লাখ টাকা ভাড়া বাকি আছে, তারা ভাড়া দেয় না। উল্টো আমার ছেলেকে মারধর করে।
এ ঘটনায় সিরাজুল হক বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় তা বাতিল করেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, অফিসের ঘরটা তার। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি ঘর ছাড়িয়ে নেবেন এটা তিনি বলতেই পারেন। তবে তিনি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন সেটা ঠিক হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :