হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট। এক দিনে, প্রায় একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের চার নেতার বাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার সন্ধ্যার পরে নগরীর ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
১৫-২০ জনের একটি দল সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল বের করে। ব্যানারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি ছিল এবং তাঁর নামে স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটি আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজেও আপলোড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ ভোর বেলা নগরীর নাইরপুলে মিছিল করে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, ছাত্রলীগের মিছিলের পরপর হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট। সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের চার নেতার বাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা তাদের বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করেছেন।
নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকাস্থ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন মিছিলসহকারে এসে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা বাসার সিসি ক্যামেরা, ল্যাপটপ ভাংচুর করে। এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। একইভাবে হামলাকারীরা বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান এবং জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশিদ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা দাবি করেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই হামলা চালিয়েছে। তা ছাড়া একই দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ ও ৩২নং ওয়ার্ডের সাবেক দুই কাউন্সিলরের বাসায়ও হামলা হয়।
এদিকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় হামলার ঘটনায় দায়ী করেছেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদীকে। তবে কয়েস লোদী সাবেক মেয়রের দাবিকে অবান্তর, বিভ্রান্তিমূলক ও অজ্ঞতাপ্রসূত বলে উল্লেখ করেছেন।
এক বিবৃতিতে কয়েস লোদী বলেন, কে বা কারা কয়েকটি বাসাবাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করেছে যা অন্য সবার মতো আমিও মিডিয়ায় দেখেছি। এসব ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং বিএনপি কোনোভাবেই এগুলো সমর্থন করে না।
আমরা চিরাচরিতভাবে সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী, কোনো অপকর্ম আমরা সমর্থন করি না বা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় বা শেল্টার দিই না। যারা এ ঘটনার জন্য আমাদের ওপর দায় চাপাতে চাইছেন তাদের উদ্দেশ্য ভালো না। আমার ধারণা, হয়তো এসব তারা নিজেরাই করে আমাদের ওপর দায় চাপাতে চাইছেন। অতীতে তারা এ রাজনীতিই করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :