শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

ফিরোজ মাহমুদ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৫, ১১:২৫ এএম

মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

দীর্ঘ সময় বন্দি জীবন থেকে ছুটি পেয়ে বেড়াতে কার না মন চায়.. তাই এবার ঈদে লম্বা ছুটি পেয়ে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। ঈদের দিন দুপুর থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ডজনখানেক পর্যটন স্পটে মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এসব স্পটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের  ৯ দিনের একটানা লম্বা  ছুটিতে উপজেলার ১২টি পর্যটন স্পট  ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম  আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কক্সবাজার বা সিলেটের মতো না হলেও  মিরসরাইয়ের সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরনা, সমুদ্রসৈকত প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে টানছে। দর্শনার্থীরা দিন দিন এই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

মিরসরাইয়ে ১২টি পর্যটন স্পটের মধ্যে রয়েছে মুহুরী প্রজেক্ট, ডোমখালী সমুদ্রসৈকত, শিল্পজোন সমুদ্রসৈকত, সব বয়সি ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ আরশী নগর ফিউচার পার্ক, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প ও হৃদ , আট স্তরবিশিষ্ট জলপ্রপ্রাত খৈয়াছড়া ঝরনা, রূপসী ঝরনা, বাওয়াছড়া প্রকল্প, বোয়ালিয়া ঝরনা, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উপকূলীয় বন,  হিলসডেল মাল্টি ফার্ম অ্যান্ড মধুরিমা রিসোর্ট  ও  মেলখুম ট্রেইল।
এবার ঈদে এখানকার পর্যটনের স্পষ্টগুলো হয়ে উঠেছে আরও  মুখরিত।

ঈদের দ্বিতীয় দিন আরশি নগর ফিউচার পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। এ যেন অন্যরকম আরশিনগর। সব বয়সি মানুষই সেখানে বেড়াতে এসেছেন। ছবি তুলছেন, গল্প করছেন। বিশেষ করে বেশি আনন্দ করতে দেখা গেছে শিশুদের। শিশুদের বিভিন্ন রাইডসে চড়তে দেখা গেছে। অনেক শিশু বিভিন্ন জীবের আকৃতির সাথে ছবি তুলছেন।

ফার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছ, ১০০ টাকায় টিকিট কিনে অনেক কিছু দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। ঈদের দিন থেকে প্রায় ৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

মারুফ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়াত বিন মাঈন বলেন, আমার বাবার সাথে এখানে বেড়াতে এসেছি। কয়েকটি রাইডসে চড়েছি, আমার অনেক ভালো লেগেছে।

চোখে পড়ার মতো পর্যটক দেখা গেছে মহামায়া ইকোপার্কে। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে এখানে ভ্রমণপিপাসু লোকজন বেড়াতে আসতে শুরু করেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সি মানুষ একটু বিনোদন পেতে এখানে ছুটে যাচ্ছেন। পর্যটকদের আনাগোনায় অনেকটা আগের চিরচেনা রূপে ফিরেছে এই পর্যটন স্পটটি।

ডোমখালী সমুদ্রসৈকতে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক স্থান ডোমখালী। ঝাউবন, লাল কাকড়ার চর, উত্তাল সাগরে নৌকা ভেসে বেড়ানো, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, হরিণের পদচিহ্ন সবই দেখতে ছুটে যাচ্ছেন সব বয়সি মানুষ।

শুধু দিনে নয়, রাতেও সাগর পাড়ে দেখা মেলে অসংখ্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের। রাতে বিশাল সমুদ্রের গর্জন কান পেতে শুনে সেখানে ছুটে যান তরুণরা।


উপজেলার আরেক কৃত্রিম লেক বাওয়াছড়ায় যাচ্ছেন লোকজন। ঈদের ছুটিতে ঘরে বসে না থেকে সবাই যাচ্ছেন এই স্পটে। বাওয়াছড়া লেক স্থানীয়ভাবে নীলাম্বর লেক নামেও পরিচিত। এখানে দুই পাশের সুউচ্চ পাহাড় থেকে পানির অবিরাম ধারা লেকে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ও শব্দ পর্যটকদের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেবে।

উপজেলার ঝরনাগুলো রাস্তার মুখে দাঁড়ানো গাড়ি দেখে বোঝা যাচ্ছে কী পরিমাণ ভ্রমণপিপাসু লোকজন ঝরনায় ছুটে গেছে। যদিও বর্ষা মৌসুমের মতো পানি এখন নেই। তারপরও ঝরনায় আনন্দের কমতি নেই। এভাবে মিরসরাইয়ের প্রতিটি পর্যটন স্পটে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। কয়েকটি স্পটে শুধু ইজারার কারণে টিকিট সংগ্রহ করে যেতে হয়। বেশির ভাগ পর্যটন স্পট উন্মুক্ত।

কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, মিরসরাইয়ের সব ঝরনা মোটামুটি দেখা হয়ে গেছে। শুধু বোয়ালিয়া ঝরনা ঘুরতে পারিনি। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে ঘুরতে এলাম। খুব ভালো লাগছে আমরা একটি বাস ভাড়া করে এসেছি। আমাদের গ্রুপে প্রায় ২৮ জন রয়েছে।

মিরসরাই উপজেলার ধুম থেকে মহামায়া ঘুরতে আসা এক নবদম্পতি জানান, এবার প্রথম এসেছি, খুব ভালো লাগছে। এখানে যে কেউ বারবার আসতে চাইবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, ঈদের ছুটি থাকায় এবার পর্যটক বেড়েছে। অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলেতে সারা বছর পর্যটক থাকেন। ঝরনায় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে আসা-যাওয়া করতে বলা হয়েছে। গাইড ছাড়া কেউ যেন ঝরনা যেতে না পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া আছে।

আরবি/আবু

Link copied!