সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়াতে যৌতুকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় গৃহবধূ খাদিজা খাতুনকে (২৩) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন বিরুদ্ধে।
উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের মুলবেড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আনোয়ার হোসেন উপজেলার এই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। গৃহবধুর মৃত্যুর পর স্বামী ও তার স্বজনরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।
খাদিজা শাহজাদপুর উপজেলার হলুদিঘর গ্রামের এমারত হোসেনের মেয়ে। ৩ বছর আগে আনোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহত খাদিজা খাতুনের বাবা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার বিভিন্ন সময়ে খাদিজাকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসাবে কখনও ৫০ হাজার আবার কখন ১ লাখ টাকা এনে দেবার দাবি জানাতেন। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ ছিল। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় প্রায়শই খাজিদাকে নির্যাতন করতেন স্বামী ও তার স্বজনরা।
শুক্রবার ভোরে যৌতুকের অর্থ নিয়ে খাজিদার সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া বিবাদ হয়। এক পর্যায়ে আনোয়ার ঘরে রাখা লাঠি দিয়ে তার স্ত্রীকে বেধড়ক পেটায়। এতে খাজিদার শোবার ঘরেই তার মৃত্যু হয়। খাদিজার মৃত্যুর পর তার স্বামী আনোয়ার এবং বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশী হিটলার কালু জানান, ভোরে কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে তিনি খাজিদার বাড়িতে আসেন। এ সময় খাদিজার নিথর দেহ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় উল্লাপাড়া থানায় খবর দেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান জানান, পুলিশ খাদিজা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘাতক স্বামী ও তার স্বজনরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। খাদিজার বাবা এমারত হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :