নাটোরের সিংড়ার চলনবিলের দুই দিনব্যাপী আড়াই`শ বছরের ঐতিহ্যবাহী তিসিখালি মেলা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত।
তিসিখালি মেলা ২৫০ বছরের ঐতিহ্য বয়ে চলা এক প্রাণবন্ত উৎসব। প্রতি বছর হাজারো মানুষের সমাগমে পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। সিংড়া উপজেলার চলনবিলের সবুজ ফসলি মাঠের বুকচিরে বয়ে চলা খালের পাশে ঘাসী দেওয়ান (রহঃ) মাজার চত্বরে শতাব্দী প্রাচীন এই মেলায় প্রতি বছর আশপাশের গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ী এখানে সমবেত হন।
এই মেলা শুধু একটি বিনোদনের স্থান নয় বরং এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় আচার-অনুষ্ঠানের এক অনন্য মিশেল। ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসব পালন করে আসছেন ডাহিয়া, হিজলী, সাতপুকুরিয়া সহ এ অঞ্চলের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ। গ্রামীণ এই মেলাকে কেন্দ্র করে বাপের বাড়িতে নাওর আসে মেয়েরা।
প্রতি বছর চৈত্র চন্দ্রিমার ৬ ও ৭ তারিখে দুই দিনব্যাপী নাটোরের সিংড়া উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে চলনবিল অধ্যুষিত তিসিখালি পীর ঘাসী দেওয়ান (রহঃ) মাজার চত্বরে মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হলেও মেলায় অত্যাধিক লোকের আগমণ ঘটবে শনিবার দিনব্যাপী। মেলাকে ঘিরে প্রতিবছর রাতভর চলে বাউল গান। স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীরা বাউল গান পরিবেশন করেন।
এ ছাড়াও বিচ্ছেদ গান এবং অন্যান্য লোকগীতির পরিবেশনাও মেলায় দেখা যায়।
এই মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের সমৃদ্ধি তুলে ধরে, যা দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। ভিন্ন ভিন্ন এ সব গানের আসর থেকে গানের মোহনীয় সুর মুখরিত করে মেলা প্রান্তর।
এ মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ মাজার প্রাঙ্গণে মানত করে হাঁস, মুরগি কবুতর নিক্ষেপ করা। মাজার ভক্তদের নিক্ষেপ করা এসব হাঁস, মুরগি ও কবুতর ধরতে অনেক দর্শনার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের একটি পরিচালনা কমিটি মাঠে রয়েছে।
তাছাড়া পুলিশ, সেনাবাহিনী, গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিযুক্ত রয়েছেন। এখানে কোনো অনৈতিক অবৈধ কার্যক্রম চলবে না।
আপনার মতামত লিখুন :