হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে চলছে স্নানোৎসব।
শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে দুই দিনব্যাপী এ স্নান উৎসব শেষ হবে আজ শনিবার রাতে। আগত পুর্ণার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন লাঙ্গলবন্দের ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে ডুব দিচ্ছে লাখ পুণ্যার্থী।
সরকারি ছুটি থাকায় এ বছর পুণ্যার্থীর ব্যাপক সমাগম হয়েছে এমনটাই পরিলক্ষিত হয়েছে। তিথি অনুযায়ী শুক্রবার রাত ২টা ৭ মিনিট থেকে লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হবে আজ শনিবার রাত ১২টা ৫১ মিনিটে।
আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৯০১ জন পুলিশ ও ৪৭১ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উৎসবের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
হিন্দু পুরান মতে, মাতৃহত্যার দায়ে অভিশপ্ত দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। এই সরোবরের জল লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদরূপে নামিয়ে আনেন লাঙ্গলবন্দের সমভূমিতে।
এখানে এসেই পরশুরামের লাঙ্গল চলা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে এই জায়গার নাম হয়েছে লাঙ্গলবন্দ। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই তিথিতে দেশ বিদেশের লাখ লাখ পুণ্যার্থী পুণ্য লাভের আশায় লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে এসে স্নান করেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস রূপালী বাংলাদেশকে জানান, এ বছর তিথি অনুযায়ী শুক্রবার রাত ২টা ৭ মিনিট থেকে লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবার রাত ১২ টা ৫১ মিনিটে। পার্শ্ববর্তী ভারত ও নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকাসহ দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী এ বছর অষ্টমী স্নানে অংশ নিচ্ছেন।
এ বছর সরকারি ছুটি থাকায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি।
মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা পরিতোষকান্তি সাহা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, লাঙ্গলবন্দের রাজঘাট, গান্ধীঘাট, প্রেমতলাঘাটসহ ১৮টি ঘাটে একযোগে এই স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্নান শেষে পুণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক চেঞ্জিংরুম স্থাপন করা হয়েছে। ১৬টি ভিআইপিসহ ১৬০টি বাথরুম স্থাপন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে পুণ্যার্থীদের সেবাদানে ৫৮টি সেবাক্যাম্প কাজ করছে। এ ছাড়াও উৎসবকে ঘিরে তিন কিলোমিটারজুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্নান এলাকায় ৯০১ জন পুলিশ ও ৪৭১ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উৎসবের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
সেখানে থাকছে সেনাক্যাম্প। প্রশাসনের ৩টি ক্যাম্পে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করেছে। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রহ্মপুত্র নদে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ সতর্ক পাহারায় রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :