ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নওগাঁর ধামইরহাট আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। ধামইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান। শালগাছ ও বেত বাগানের মিশেলে নৈসর্গিক এক সৌন্দর্যময় পর্যটন স্থান এই উদ্যান।
উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে এই জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। শালবাগানের পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানার কোলঘেষে ৪৩ একর আয়তকার একটি দীঘি রয়েছে এই উদ্যানে।
প্রচলিত ইতিহাস থেকে জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির অভাব দূর করতে প্রায় এক হাজার বছর আগে এই শালবনে সাথে লাগোয়া দীঘি খনন করা হয় পাল শাসনামলে। ২০১১ সালে বন বিভাগ শালবনটিকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করে।
কিছুদিন আগে উদ্যান সংসার ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় বন বিভাগ। (যদিওবা দিঘির চারপাশে থাকা অসংখ্য গাছপালা কেটে ফেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান) তারই অংশ হিসাবে উদ্যানে নির্মাণ করা হয় ৭০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার। বর্তমানে এই ওয়াচ টাওয়ারটি উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে এটি এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে।
ঈদের দিন থেকে আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমাতে শুরু করেছে এই উদ্যানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আসা-যাওয়া করছে হাজার হাজার দর্শনার্থী। যার কারণে উদ্যানে প্রবেশের রাস্তাগুলো যানবাহন আর পর্যটকদের চাপে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। অনেক সময় রাস্তাগুলোতে যানবাহন এবং পর্যটকদের জটলায় চাকার চলাচল স্থবির হয়ে পড়ছে।
চৈত্রের প্রখর রোদ আর খরা উপেক্ষা করে উদ্যানে আগত হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমনে মুখোরিত থাকছে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান। উদ্যানে নবনির্মিত ওয়াচ-টাওয়ারে উঠে উঁচু থেকে বনের সৌন্দর্যকে এক নজর দেখবার জন্য দর্শনার্থীরা লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে।
ঈদে আগত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে উদ্যানে বসেছে নানান ধরনের বিনোদনের ব্যাবস্থা আর খাবার হোটেল। শিশুদের কথা মাথায় রেখে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে উদ্যানে বসেছে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও খেলনার দোকান।
স্থানীয়দের মতে বিগত দিনের তুলনায় এইবার আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। উদ্যানে আগত কয়েকজন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে যান্ত্রিকতা থেকে একটু দূরে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে। নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্য মতো উদ্যানে প্রবেশের জন্য রাস্তাগুলো প্রশস্ত করনের দাবী জানান উদ্যানে আগত দর্শনার্থীরা।
আপনার মতামত লিখুন :