বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

দর্শনায় কমেছে আমদানি, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম

দর্শনায় কমেছে আমদানি, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

 চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলস্টেশন দিয়ে ভারত থেকে মালবাহী ট্রেনে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরের শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী ও সারাদেশ থেকে আসা ট্রাকচালক-হেলপাররা অলস সময় পার করছেন। সেই সাথে কমেছে রাজস্ব আয়। ভারত থেকে এ রেলপথ দিয়ে মালবাহী ওয়াগনে করে পণ্য আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সময়ে পণ্য আমদানি ও খালাসের পর সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে চাহিদামতো সরবরাহ করা হয়। তবে নানা কারণে আমদানি কমেছে এ বন্দরে।

তবে ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যাংক চাহিদামতো এলসি অনুমোদন না করায় পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না। অল্প কিছু পণ্য আমদানি হলেও রেল ইয়ার্ডে নেই আগের মতো সেই কর্মব্যন্ততা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে স্থানীয় অনেক শ্রমিক ও ট্রাকচালক।

শ্রমিক ও ট্রাকচালকরা জানান, পণ্য আমদানী না থাকায় অলস সময় পার করছি। এর প্রভাব পড়ছে সংসার খরচে। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, আগের সেই ব্যস্ততা নেই। শুয়ে-বসে দিন যায়। সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হোক। এভাবে চললে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জমির নামের এক ট্রাকচালক বলেন, এ রেলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কোনো মালবাহী ট্রেন প্রবেশ না করায় বেকার হয়ে বসে আছি। কবে মালামাল আসা স্বাভাবিক হবে বুঝতে পারছি না।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই হাজার ৭৯৮টি ওয়াগনে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ৫৯ কোটি টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ হাজার ৭শ ৪৯ ওয়াগনে আমদানি হয় পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন পণ্য। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় মাত্র ২৬ কোটি ৯৪
লাখ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ৫ শ ৫৪ ওয়াগনে ৯১ হাজার ৯৭৭ মেট্রিন টন পণ্য আমদানি হয়। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে চার কোটি ১২ লাখ টাকা।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মির্জা কামরুল হক জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পণ্য আমদানি কমেছে। এতে রাজস্ব আদায়ও কমেছে। এখনো পর্যন্ত পণ্য আমদানি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। আসলে হয়তো রাজস্ব বাড়বে।

আরবি/জেডআর

Link copied!