বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

সৌদিতে নিহত ময়মনসিংহের দুই শ্রমিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

ময়মনসিংহ ব্যুরো

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম

সৌদিতে নিহত ময়মনসিংহের দুই শ্রমিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মরদেহের অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী-সন্তানরা।

নিহতরা হলেন, জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার গোদাবাড়ি গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩২)। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক, অপরজন কুরচাই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ইকরাম (২৪)। তিনি এক সন্তানের জনক।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম রূপালি বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিট অফিসারদের মাধ্যমে দু‍‍`জনের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

গত ২১ ডিসেম্বর সৌদি আরব সময় সকাল ১১টার দিকে মদিনা শহরে আল রিয়া কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের বহনকারী (ট্রাক) গাড়িটির সাথে অন্য দিক থেকে আসা ট্রেলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত হয়। এতে আরও দু‍’জন আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সুত্র।

নিহত শ্রমিক ইকরামের বাবা আবু সাঈদ রূপালি বাংলাদেশকে বলেন, আমার ছেলে ইকরাম এক সন্তানের বাবা। এক বছর আগে সংসারের হাল ধরতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়েছিলেন। সেখানে ইকরাম রাস্তা ক্লিনারের কাজ করতেন। ঘটনার দিন সকালে কাজ করে ময়লার গাড়িতে করে ৮/১০ জনকে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে পেছন থেকে অন্য গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার ছেলে ইকরামসহ ৪ জন মারা যায়। এ সময় আহত হয় আরও দু‍‍`জন। ৪ জনের একজন আমার ছেলে ইকরাম। আরেকজন রিফাত গোদাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অপর দু‍‍`জনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা বলে জানতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ছেলের মা বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। ছেলের স্ত্রী রুনা শোকে পাথর হয়ে গেছে। কারোর সাথে কোন কথা বলছে না। আমার ছেলের দুই বছরের এক সন্তান রয়েছে। সে শুধু সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মরদেহ আনার জন্য কাগজপত্র তৈরী করছি বলেও জানান তিনি।

নিহত ইকরামের বড় বোন শাহিনুর বলেন, আমি ঢাকাতে বসবাস করি। ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বাড়িতে এসেছি। আমার ভাই ওই কাজে বের হওয়ার সময় সবার সাথে কথা বলেছে, কে কেমন আছে জানতে চাইছে। আমার সেই ভাই কথা বলার কয়েক ঘন্টা পরেই মারা গেছে। ভাই আর আমাদের সাথে কথা বলবে না।

পাইথল গ্রামের নিহত সুমনের চাচা চাচা শাহিন মিয়া রূপালি বাংলাদেশকে বলেন, সুমন এক যুগ ধরে সৌদি আরবের মদিনায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করে আসছেন। গত দুই বছর আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। এভাবে তার মৃত্যু পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছে না। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্ত্রী সন্তানরা মরদেহের অপেক্ষায় আছে।

আরবি/জেডআর

Link copied!