দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতে পর্যটকের আগমনে মুখর থাকে। নানা কারণে চলতি মৌসুমে বিলম্বে পা পড়েলেও ডিসেম্বরে পর্যটকের আগমনে মুখে হাসি ফুটেছে দ্বীপের সাড়ে ১০ হাজার বাসিন্দার। দ্বীপবাসী বলছেন, পর্যটক আগমনে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে দ্বীপের, এভাবে পর্যটক আসলে চাঙা হবে সব পর্যটন ব্যবসা। দূর হবে আর্থিক অনটন। তবে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে সকল জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঘাট মালিক, জাহাজ মালিক ও পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সীমিত পরিসরে হলেও টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ রটে জাহাজ চলাচলের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে কক্সবাজার ইনানী থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ কতৃপক্ষ জানান, বিধিনিষেধ বিবেচনা করে দুই হাজার সীমাবদ্ধ না রেখে তা আরো বৃদ্ধি করলে দ্বীপবাসি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন থেকে অনেকটা ফিরে আসতে পারবে।
এখন কক্সবাজার থেকে জাহাজ এসে ১/২ ঘন্টার চেয়ে বেশি থাকতে পারে না। বলতে গেলে এখন জাহাজ ভ্রমন হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের স্থায়ী বাসিন্দা রেজাউল করিম। পেশায় একজন হোটেল মালিক। তিনি জানান, পর্যটক না আসলে আমাদের পেটে ভাত জুটেনা এবং স্টাফদের বেতন দিতে পারিনা।
টমটম চালক সাইফুল বলেন, মৌসুম আসলে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস সেন্টমার্টিনে আসেনি কোন পর্যটক। এতে নানা কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে তার। তবে এখন দ্বীপে পর্যটক আগমনে মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি দ্রুত টেকনাফ থেকে গেলবারের মতো ৮/৯টি জাহাজ চলাচলের কথা বলেন।
দ্বীপের বাসিন্দা হোটেল মারমেইডের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান বলেন, পর্যটক না আসাতে দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন দ্বীপে পর্যটক আসতে শুরু করায় অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি, এখন খুব ভালোভাবে সংসার চালাতে পারব।’
শুধু তারা নন; কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে গত পহেলা ডিসেম্বর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবার পর প্রাণ ফিরেছে দ্বীপের বাসিন্দাদের। কর্মচাঞ্চল্য এসেছে পর্যটন নির্ভর সব ব্যবসায়। তবে এখনো তুলনামূলক কম। অনেক পর্যটক দ্বীপে এসে রাত্রিযাপন করছেন।
বার্মিজ দোকানী হেলাল উদ্দিন বলেন, বেচাবিক্রি ছিল না, তাই দোকানও বন্ধ রেখেছিলাম প্রায় ১০ মাস। এখন পর্যটক আসছে তাই দোকানও খুলেছি। মোটামুটি বেচাবিক্রিও হচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারনে ভেঙে যাওয়া দোকান এখনো যথাযত মেরামত করতে পারিনি।
হোটেল সী-প্রবালের পরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর দ্বীপে পর্যটক আসছে। সরকারের বিধিনিষেধের কারনে অনেককিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে হোটেলেও। আজ হোটেলে ১০টি রুম বুকিং রয়েছে। আস্তে আস্তে বাড়ছে পর্যটকের চাপ। আমরা পর্যটকদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করি সবসময়। আশা করি, এই মৌসুমের বাকি সময় বেশ ভালো কাটবে।
তবে দ্রুত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সকল পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়েছে দ্বীপের ব্যবসায়ীরা।
সেন্টমার্টিনে বেড়াতে আসা ঢাকার মোহসিনুল, তোফা, রিদুয়ান ও আনোয়ার বলেন, অনেকদিন পর দ্বীপে এসে খুব ভালো লাগছে-তবে কক্সবাজার থেকে ৬/৭ ঘন্টার ভ্রমন কষ্টকর হচ্ছে। জাহাজ চলাচল টেকনাফ থেকে হলে খরচ-সময় বাঁচবে এবং আরামদায়ক হবে। এখন দ্বীপের জেটির অবস্থা খুবই খারাপ তাও সংস্কার করা দরকার। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি জানাচ্ছি।
দ্বীপের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানালেন, জাহাজ চলাচলে বিলম্বে দ্বীপে পর্যটকের আগমন হলেও দারুণ খুশি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। প্রয়োজনে সামনে ৪ মাস জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে দ্বীপবাসী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা আরো খুশি হবেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ এহসান উদ্দিন জানান, সরকারের বিধিনিষেধ ও নিয়মাবলি মেনে এখন কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন ৩/৪ টা জাহাজ যাচ্ছে । মৌসুমের প্রথমদিন আগত পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে আগত পর্যটকরা যেন কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। সেই কারনে জেটিঘাটসহ বিভিন্ন স্পটে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :