ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৫

শেখ সেলিমের ছায়ায় স্বাধীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

হাবিব সরকার স্বাধীন ওরফে ‘বড়ি হাবিব’। থাকেন রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলনিতে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। দেখতে সাধারণ মানুষের মতো হলেও তিনি একজন চাঁদাবাজ। যুক্ত আছেন মাদক ব্যবসার সঙ্গেও। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। 

জানা যায়, ৫ আগস্টের আগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এমপি ও নিজ নামে ব্যানার-ফেস্টুন ছাপিয়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গড়ে তোলেন মাদক ব্যবসা। শুধু মাদক ব্যবসা নয়, তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে বনানী ও টিঅ্যান্ডটি কলোনির মানুষ। আবার নানা সময়ে সুবিধা নিতে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার মানুষসহ পুলিশ প্রসাশনকেও রাখতেন চাপে। তার বিরুদ্ধে মামালা থাকার পরেও মুক্ত পাখির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন বুক ফুলিয়ে। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীন সরকারের স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খলিল সরকারের ছেলে। তবে এলাকায় কাজকর্ম না থাকায় অনেক আগেই বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনির মসজিদের পাশে বসবাস শুরু করেন। এর পর থেকেই ভাগ্যের চাকা খোলে তার। এমপি শেখ সেলিমের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জোরপূর্বক বাড়ি ও জায়গা দখলসহ নানা অপরাধের সর্গরাজ্য গড়ে তোলেন। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ আগস্ট বনানী মডেল থানায় স্বাধীনের নামে হামলার অভিযোগে মামলা হয়, যার নম্বর ১৬। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একই থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আর একটি মামলা হয়, যার নম্বর ৪১। এরপর ২০২১ সালের ৩ আগস্ট মারপিটের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ০৩। ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খিলক্ষেত থানায় মামলা হয়, যার নম্বর-১১। একই অভিযোগে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট পল্লবী থানায় মামলা হয়, যার নম্বর ১১। 


জানা য়ায়, মো. স্বাধীন  আওয়ামী লীগ শাসনামলে দির্ঘদিন বনানী থানাধীন ২৩ নম্বর রোডে সাংবাদিক পরিচয়ে অস্থায়ী অফিস তৈরি করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হলে তার বেশির ভাগ অপকর্ম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে, কিছুদিন যেতে না যেতেই অভিনব সব ফাঁদ পেতে চাঁদা আদায় শুরু করেন। তার এমন ফাঁদ থেকে রেহাই পান না ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবিসহ সাধারণ মানুষ।


সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের সঙ্গে সংখ্য গড়ে তুলে কড়াইল বস্তিতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ব্যবসা পরিচালনার জন্য রেশমী বেগমের কাছ থেকে জোর করে একটি কক্ষ লিখে নেন। তবে ওই নারীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েও কক্ষ দখল নিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকসহ নানা পরিচয় দিয়ে থানা থেকে সুবিধা নিতে চেয়েও ব্যর্থ হন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বনানী থানার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে থাকেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কড়াইল বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি গত ছয় বছর ধরে এখানে থাকি। বড়ি হাবিব্বা (স্বাধীন সরকার) বস্তিতে ইয়াবা ব্যবসা করত।  বিভিন্ন সময়ে নানা ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলত। সরকারের পতনের পর, হঠাৎ দেখি সে সাংবাদিক হয়ে নতুনভাবে চাঁদাবাজি শুরু করছে। এর আগে চাঁদাবাজি ও মারধরের জন্য একটি অফিসও ছিল। চাঁদা না দিলে অফিসে ধরে নিয়ে মানুষকে অত্যাচার করা হতো। সেই অফিস থেকেই মূলত চলত মাদক ব্যবসা। তবে, ৫ আগস্টের পর অফিস না থাকলেও তারা চাঁদাবাজি ও বড়ির (ইয়াবা) ব্যবসা চালু রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে হাবিব সরকার স্বাধীন জানান, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব মামলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যমূলক। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের এমপির সঙ্গে ব্যানার-পোস্টার প্রচারের বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে না পারায় বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। একই সঙ্গে, সংবাদ প্রকাশ না করতে বিভিন্ন সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবি করেন। 

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।