ঢাকা সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

ঈদের নাটকে অশ্রুসিক্ত দর্শকমহল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৫, ০৫:৩৯ পিএম
‘বড় ভাইয়ের ঈদ নাই’ নাটকের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এবারের ঈদে টেলিভিশনের পর্দায় এবং ইউটিউবের স্ক্রিনে জমে উঠেছিল নাটকের উৎসব। একের পর এক হৃদয় ছোঁয়া গল্প, প্রাণবন্ত সংলাপ আর মুগ্ধতা ছড়ানো অভিনয়ে মাতিয়ে রেখেছিল দর্শককুলকে। সেই ভিড়ে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ‘বড় ভাইয়ের ঈদ নাই’। সামাজিক মাধ্যমে নাটকটি ঘিরে দেখা গেছে প্রশংসার ফুলঝুরি। অনেকে বলেছেন, ‘বহুদিন পর একটি নাটক দেখে চোখ ভিজে গেছে।’

নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ভাই-বোনের আন্তরিক সম্পর্ককে ঘিরে। বড় ভাই প্রবাসে চাকরি করেন, ঈদের সময়ও দেশে ফিরতে পারেন না। ছোটবোনের মন খারাপ, চারপাশে উৎসবের আমেজ থাকলেও ভাইকে না পেয়ে তার উৎসব ফিকে হয়ে যায়। তবে ভাইয়ের পাঠানো উপহার, একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা আর তাঁর ভালোবাসাই আবার বোনের মুখে হাসি এনে দেয়। এই মানবিক গল্প দর্শকদের মনে ছাপ ফেলেছে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আলিফ চৌধুরী।অভিনয়ে ছিলেন তিনি নিজেই। সঙ্গে ছিলেন জান্নাতুল রিতু। প্রযোজনায় ছিল এমকে মিডিয়া। 

একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলিফ চৌধুরী বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এমন একটা গল্প বলতে, যেটা একদিকে বাস্তব আবার অন্যদিকে আবেগে গা ভাসাতে বাধ্য করবে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, আমরা কিছুটা হলেও পেরেছি।’

ঈদের আরেক আলোচিত নাটক ‘হৃদয়ে রেখেছি গোপনে’। এ নাটকের গল্পে আছে না বলা ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর সামাজিক রীতির সঙ্গে টানাপোড়েন। এক গ্রামে বেড়ে ওঠা দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে তৈরি হয় একতরফা প্রেম, যেটা কখনো স্পষ্ট হয়ে ওঠে না। গল্পের আবহ, আবেগ আর সংলাপ দর্শকদের নাড়িয়ে দেয়।  

পরিচালনায় ছিলেন ইমরুল রাফাত, অভিনয়ে ছিলেন ইয়াশ রোহান ও তৌতিন। নাটকটি প্রযোজনা করেছে সিএমভি।  

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরুল রাফাত বলেন, ‘গল্পটি ছোট কিন্তু গভীর। আমরা চেয়েছিলাম কম সময়ে একটা অনুভূতির ভেতরে টেনে নিয়ে যেতে। অনেক দর্শক ইনবক্সে লিখেছেন—এই নাটক দেখে তারা পুরোনো প্রেমের কথা মনে করেছেন।’

তালিকার তৃতীয় নাটক ‘মিশন ঈদ’ একেবারে আলাদা স্বাদের। শহুরে বাস্তবতায় গাঁথা এ নাটকে দেখা যায়, একটি পরিবার ঈদের সময় ঢাকায় আসে তাদের আত্মীয়ের বাসায়, কিন্তু সেখানে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়ে। গ্যাস-সংকট, বাজারের দাম, অতিথির বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে ঈদের উৎসব যেন এক কঠিন ‘মিশনে’ রূপ নেয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা শেষে রূপ দেয় এক আনন্দঘন সমাপ্তিতে। 

নাটকটি পরিচালনা করেছেন সামান্তা পারভেজ, অভিনয়ে ছিলেন আরশ খান ও তানসুভা তৃষা। প্রযোজনা করেছে ড্রামা রিভারস।  

সামান্তা পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ নাটকের ভাবনা ছিল হালকা হাস্যরসের মধ্য দিয়ে একটা বার্তা দেওয়া—পরিবারই আসলে ঈদের আসল আনন্দ।’

তিনটি নাটকই ছিল এবারের ঈদের বিনোদন ভান্ডারের ঝলমলে রত্ন। গল্পের সরলতা, সংলাপের আন্তরিকতা আর প্রাণবন্ত অভিনয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে। নাটকগুলো যেন প্রমাণ করে দিয়েছে—এখনো দর্শক ভালো গল্প খোঁজেন, শুধু সেটাকে মন দিয়ে বলতে জানতে হয়।