উপমহাদেশের মিউজিক্যাল হার্টথ্রুব আতিফ আসলাম। তিনি যখন মঞ্চে উঠেন তখন সুরের মূর্ছনায় মাদকতা ছড়িয়ে দেন পাকিস্তানি প্লেব্যাক সিঙ্গার ও ভারতীয় এই সংগীত সুপারস্টার। তার নামেই কাঁপে সংগীত দুনিয়া। নিজ দেশ কাঁপিয়ে এবার কাঁপালেন লাল সবুজের পতাকার বাংলাদেশকে। ভারতীয় এই মিউজিক সেনসেশান বাংলাদেশে এলেন, গাইলেন আর জয় করলেন এদেশের অগণিত অনুরাগীদের। মঞ্চ থেকে কণ্ঠের সুধা বিলিয়ে দিয়ে হেমন্তের শীতেও উষ্ণতা ছড়ালেন।
প্লে ব্যাকের যেই গানগুলো শুনে শুনে এদেশের সংগীত পিপাসুরা হৃদয়ের গহীনে যেই আতিফকে ভালোবাসার স্থান দিয়েছিলেন সেই আতিফ আসলাম এবার সরাসরি সেই গানগুলো পরিবেশন করে উচ্ছ্বাসের ঝড় তুললেন কানায় কানায় পরিপূর্ণ আর্মি স্টেডিয়ামে। এমন দৃশ্যই ছিল উপমহাদেশের মিউজিক্যাল সুপারস্টার আতিফ আসলামের কনসার্টে।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘ম্যাজিক্যাল নাইট ২.০’ শিরোনামের এই কনসার্ট। সেই পড়ন্ত বিকেল থেকেই আর্মি স্টেডিয়ামে দর্শক-শ্রোতাদের অপেক্ষা। এদেশীয় ভক্তদের বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে স্টেডিয়ামের গেট খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় স্টেডিয়াম।
প্রতীক্ষার প্রহর শেষে আসরের প্রাণভোমরা আতিফ আসলাম যখন মঞ্চে উঠেন তখনই বেরসিক বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বিভ্রাট সৃষ্টি হয় সুরের জলসায়। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে স্টেজে উঠার দশ সেকেন্ডের মধ্যেই লোডশেডিং হানা দেয় অনুষ্ঠানে। মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় কনসার্ট। ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ আসার পর আবারও মঞ্চে ফেরেন তিনি।
‘দিল দিয়া গ্যালান’ দিয়েই সুরের ঝাঁপি খোলেন এই সুরের যাদুকর। পরবর্তীতে একে একে গেয়ে শোনান ‘হ্যা সিখা মেইনে জিনা’, ‘তেরা হনে লাগা’, ‘মেন রাং শারবতকা’, ‘তু চাহিয়ে’, ‘তেরে সাং ইয়ারা’, ‘তু জানে না’, ‘পেহিলি নাজার মে’, ‘আপ ত আদাত সি হে মুঝকো’সহ নিজের সব জনপ্রিয় গান।
পরিবেশনার শুরু থেকে সুরের খেলা সাঙ্গ হওয়ার আগ পর্যন্ত দর্শক শ্রোতাদের উন্মাদনায় ভাসান। সুরের পিয়াসিরাও করতালি আর ওয়ান মোর ওয়ান মোর ধ্বনির সঙ্গে নাচের তালে তালে প্রিয় শিল্পীর প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। আসরে আরও সংগীত পরিবেশন করেন পাকিস্তানি তরুণ শিল্পী আবদুল হান্নান, বাংলাদেশের তাহসান খান ও ব্যান্ড কাকতাল।
বলা দরকার, এই কনসার্ট ঘিরে চরম অনিয়ম ও নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সাধারণ দর্শক-শ্রোতাদের লাঠি চার্জ করা হয়, যার কারণে এই সুরের আসরে অসুর হানায় মুহূর্তেই উচ্ছ্বাস আর উন্মোনা ঢেকে যায় বিষাদের কালো মেঘে!