সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের পর প্রথমবারের মতো কোনো সিনেমা প্রযোজক সনদ পেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেন। ‘দ্য রিমান্ড’ সিনেমার প্রযোজক অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেনের করা এক রিটের শুনানি করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
গত বুধবার শুনানিতে বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ কেন ‘দ্য রিমান্ড’ চলচ্চিত্রের ‘সার্টিফিকেশন সনদ ইস্যু’ করা হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপ-পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।’ এমন নির্দেশনার দুই দিনের মাথায় সার্টিফিকেশন বোর্ড প্রিভিউ করেছে সিনেমাটি। শুক্রবার দুপুরে তারা প্রিভিউ করেন।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ও নির্মাতা সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল ‘দ্য রিমান্ড’-এর সর্টিফিকেশন সনদ ইস্যুর নির্দেশনা ও তিন দিনের মধ্যে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করার পর শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, তিন দিনের মধ্যে সার্টিফিকেশন সনদ ইস্যুর নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেছেন।
রিট শুনানিতে নির্দেশনার পর পর নড়েচড়ে বসেছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। তারা শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে ‘দ্য রিমান্ড’ প্রিভিউ করে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড সদস্য জানিয়েছেন, সিনেমাতে পুলিশকে পজেটিভ দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে সিনেমার নায়ক আবির চৌধুরী বলেন, ‘সিনেমাতেপুলিশকে বাস্তবতার নিরিখে দেখা হয়েছে। এখানে আমরা যেমন গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের হিংস্রতা দেখিয়েছি, তেমনি রিমান্ডের নামে পুলিশি আইনি দায়িত্বশীলতা পরিস্ফুটিত হয়েছে। আমি বলব বস্তুনিষ্ঠ জায়গা থেকে পুলিশকে দেখুন তখন আমরা পুলিশের দুটো দিক দেখতে পাবেন।’
অন্যদিকে, গত ১১ জানুয়ারি বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সিনেমাটির প্রেস শো এবং শো পূর্ববর্তী আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও লিখিত কোনো চিঠি না দিয়েই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাংলা একাডেমি ওই অনুষ্ঠানটি বাতিল করে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হস্তক্ষেপেই বাংলা একাডেমি পূর্ব নির্ধারিত সেই আয়োজনটি বাতিল করতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রযোজক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিষয়ে আমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। যে প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ বাতিল হয়েছে সেটা অনভিপ্রেত। উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটা করার সুযোগ নেই। প্রযোজক চাইলে সেটার জন্যেও রিট করতে পারেন।
এ নিয়ে প্রযোজক বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাংলা একাডেমি বরাবর একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। তারাও এর জবাব দিয়েছেন। তবে আমি সন্তুষ্ট নই। আমি তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করব।’
আশরাফুর রহমানের পরিচালনায় সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, পারভেজ আবির চৌধুরী, সালহা খানম নাদিয়া, লুৎফর রহমান জর্জ প্রমুখ।