টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আসন্ন ছবি ‘পুরাতন’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। মুক্তির আগে ছবির প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করলেও তার মধ্যে কাজ করছে প্রবল উত্তেজনা ও টেনশন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নতুন সিনেমা, কাজের চাপ এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
কেমন আছেন জানতে চাইলে ঋতুপর্ণা হেসে বলেন, ‘আপাতত চিন্তায় আছি। রাতে ঘুম আসছে না। কারণ ‘পুরাতন’ মুক্তি পাচ্ছে!’
ছবির মুক্তির আগে এখনও টেনশন হয়? উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন আগের চেয়েও বেশি টেনশন হয়। তবে সেটা কাউকে বুঝতে দিই না। কোন কাজটা সঠিকভাবে হলো, আর কোনটা মিস হয়ে গেল—এই ভাবনাতেই দিন-রাত কেটে যায়। শুধু প্রযোজক হিসেবে নয়, যেকোনো ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও একই অনুভূতি কাজ করে।’
ঋতুপর্ণা নিজেকে খুবই আবেগপ্রবণ মনে করেন। তার কথায়, ‘যখন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনও পুরস্কার পাই না, তখন বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলি। কিছুদিন আগেই এমনটা হয়েছে। অন্য কেউ পুরস্কার পেয়েছেন বলে নয়, বরং আমার মনে হয়েছিল, আমি কাজের বিচারে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। যদিও কাছের মানুষরা বোঝানোর চেষ্টা করেন, তবুও আমি নিজেকে বদলাতে পারিনি। আমি অন্যদের মতো হতে পারি না—এটাই হয়তো আমার দুর্বলতা, আবার শক্তিও।’
বর্তমানে টলিউডে নতুন ও পুরনো প্রজন্মের মধ্যে কি কোনও দ্বন্দ্ব রয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘প্রতিটি জগতে ভালো ও খারাপ দুটি দিকই থাকে। আমি খুব অপটিমিস্টিক মানুষ, সবকিছু সমান্তরালভাবে দেখি। এখনকার নতুন প্রজন্ম আর আগের দিনের তারকাদের মধ্যে কাজের ধরনে পার্থক্য আছে, তবে সেটাকে সংঘাত বলা যাবে না।"
তিনি আরও বলেন, "এখন তো কেউ সাজেশনও নেয় না! তবু যদি আমার পরামর্শে কারও উপকার হয়, তাহলে সেটা দিতে পছন্দ করি। কেউ গ্রহণ করলে ভালো, না করলে নিজে থেকেই সরে আসি।’
‘পুরাতন’ ছবির মাধ্যমে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর দীর্ঘদিন পর বাংলা ছবিতে ফিরছেন। এ নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ওনার সঙ্গে আমার যোগাযোগ সবসময়ই ছিল। তিনি নিজেই বলেছিলেন, বাংলায় কাজ করতে চান। আমিও সঠিক স্ক্রিপ্টের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে ব্যাটে-বলে মিলে গেছে!’
ঋতুপর্ণার কথায় স্পষ্ট, সিনেমার প্রতি তার নিবেদন এখনও আগের মতোই অটুট। আর ‘পুরাতন’ মুক্তির আগে তার এই আবেগ ও উত্তেজনা যেন ছবির প্রতি তার ভালোবাসারই প্রতিফলন।