ওপার বাংলার অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য। ২০২২ সালে ‘মন মানে না’ ধারাবাহিকে প্রটাগনিস্ট হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। এরপর আরও বেশকিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। এর বাইরে তাকে দেখা গেছে ‘সেন্টিমেন্টাল’ সিনেমাতেও। সামনে তার আরেকটি সিনেমা রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। প্রথমবারের মতো এই অভিনেতা কাজ করেছেন বাংলাদেশের সিনেমায়। নাম ‘বরবাদ’। সিনেমাতে শাকিব খানের সহকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। যে কারণে প্রথম সিনেমাতেই সবার নজর কেড়েছেন শ্যাম।
‘এই জিল্লু মাল দে’-‘বরবাদ’ সিনেমার এই সংলাপটি এখন দর্শকের মুখে মুখে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা নিয়ে বেশ লেখালেখি হচ্ছে। বিষয়টি নজরে এসেছে অভিনেতার। শুধু বললেন, ‘এটা মূলত শাকিব স্যারের সংলাপ। কিন্তু দর্শকরা আমাকে নিয়ে যেভাবে প্রশংসা করছেন, তাতে সত্যি ভীষণ আনন্দ লাগছে। এমনটাই তো চেয়েছিলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’
যোগ করে শ্যাম আরও বলেন, ‘সিনেমাটি দেখার জন্য আমি এখন পাগল হয়ে আছি। আমাদের এখানে কবে মুক্তি পাবে, এখনো জানি না। এতদিন ধৈর্য ধরে থাকতেও পারছি না। অস্থির হয়ে আছি সিনেমাটি দেখার জন্য। তা ছাড়া আমার পরিবারের সবাই বেশ উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন বরবাদ দেখার জন্য।’
জিল্লু চরিত্রে ‘বরবাদ’-এ যুক্ত হয়েছেন কীভাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এই সিনেমাটায় আমার অভিনয় করার কথা ছিল না। সিনেমাটির সহকারী পরিচালকদের কারো একজনের করার কথা ছিল, কিন্তু চরিত্রটির বেশ ওজন থাকায় শাকিব স্যার পরিচালককে পরামর্শ দেন কোনো অভিনেতাকে নিতে।
শুটিং শুরুর তিন-চার দিন আগে আমার কাছে প্রস্তাবটি আসে ঋদ্ধি সিদ্ধি এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে। সিদ্ধার্থ আমাকে জানায় যে, এ রকম একটা সিনেমা হচ্ছে, শাকিব খানের পিএসের চরিত্র; পুরো সিনেমাতে তার সঙ্গেই চরিত্রটিকে দেখা যাবে। এটা শোনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গেছি। বলতে পারেন, শাকিব স্যারের কারণেই আমি জিল্লু হতে পেরেছি।’
স্ক্রিপ্ট পেলেও আমার কাছে কোনো ব্রিফ ছিল না যে চরিত্রটা কীভাবে কী করব। পরে শুটিং শুরুর আগে শাকিব স্যারের সঙ্গে দেখা করে কিছুটা আলোচনা করে নেই। তিনি আমাকে সালমান খানের বডিগার্ড সেরার উদাহরণ দেন।
কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শ্যাম বলেন, ‘এককথায় অসাধারণ। এই সিনেমার মাধ্যমে আমার দুটো স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে। এক বড় স্কেলের কোনো সিনেমাতে অভিনয় করা আর দুই, শাকিব খান স্যারের সঙ্গে কাজ করতে পারা। কলকাতায় দেব, জিত দা আমার খুব পছন্দ, তাদের সঙ্গে এখনো আমার কাজ করা হয়নি। তার আগে আমি শাকিব স্যারের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে গেছি। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতোই।’
পাসপোর্ট, ভিসা প্রস্তুত থাকলেও আপাতত কলকাতায় অন্য একটি শুটিংয়ের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছেন না বলে জানালেন শ্যাম। সিনেমাটি দেখার তর সইছে না তার, তাই যেকোনো সময়েই হুট করে চলে আসতে পারেন বলে জানালেন। কলকাতায় থাকলেও শ্যামের নানা বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুরে। পুরো সিনেমাতে শাকিবের সঙ্গে তার রসায়ন দর্শকরা বেশ লুফে নিয়েছেন।