শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

উপহারের জাদুকর

হিমালয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম

উপহারের জাদুকর

ছবি: সংগৃহীত

শীতের গভীর রাতে, চারপাশ নীরব, আপনি হয়তো ঘুমে; তখন দূর থেকে ভেসে এসেছিল ঘণ্টাধ্বনি। শুনতে পেয়েছিলেন? কুয়াশার চাদরে ঢাকা পথ পেরিয়ে, এক অদ্ভুত বুড়ো ছুটে চলেছে তার স্লেজ নিয়ে। লাল পোশাক, সাদা দাড়ি আর ঝুলিতে উপহারের ভার। কে এই রহস্যময় বুড়ো? কেউ বলে তিনি স্বপ্ন, কেউ বলে গল্প। তবে বিশ্বাসের সেই আগুনে তার নাম জ্বলজ্বল করে; তিনি সান্তা ক্লজ।

এই চরিত্রের শিকড় বহু প্রাচীন। চতুর্থ শতাব্দীতে ভূমধ্যসাগরের মাইরা শহরে এক মহান ব্যক্তি ছিলেন, যার নাম সেন্ট নিকোলাস। মানবতার সেবায় যিনি নিজের সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। নিজেকে গোপন রেখে দরিদ্র, অসহায়, আর বিশেষ করে শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পছন্দ করতেন তিনি। তার মহানুভবতার গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে ডাচ অভিবাসীরা এই গল্প নিয়ে আসে নতুন এক ভূমিতে। তাদের ‘সিন্টারক্লস’ নামটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় ‘সান্তা ক্লজ’-এ। তবে আজকের পরিচিত লাল পোশাক আর হাসিখুশি বুড়োর চেহারা প্রথম তুলে ধরেন শিল্পী থমাস ন্যাস্ট। ১৮৬২ সালে আঁকা তার চিত্রকর্মে সান্তা হয়ে উঠল প্রাণবন্ত। সেই ছবি থেকে জন্ম নিল এমন এক চরিত্র, যা শুধু শিশুদের নয়, সব বয়সের মানুষকেই মুগ্ধ করে।

বিশ্বাস করা হয়, বছরের সেরা কাজগুলো যারা করে; তাদের জন্য সান্তার ঝুলিতে থাকে উপহার। সান্তার এই গল্পের মাধ্যমে ভালো কাজের প্রতি শিশুদের উৎসাহ সৃষ্টি হয়। বড়দিনের আগে অনেক শিশুরা ছোট্ট হাতে লেখে চিঠি, সান্তা ক্লজের ঠিকানায়।

কিন্তু সান্তা কেবল উপহারের বাহক নয়। তিনি এক মহৎ বার্তার প্রতীক। তার গল্প উদারতা, ভালোবাসা আর পরার্থপরতার শিক্ষা দেয়। ছোট্ট উপহারের মাঝে লুকিয়ে থাকে বিশাল এক জীবনদর্শন। মানুষকে ভালোবাসার জন্য বেশি কিছু লাগে না, শুধু একটা আন্তরিক ইচ্ছা আর একটু উদারতা থাকলেই হয়।
লাল পোশাক আর ঝুলিতে উপহারের ওজন নিয়ে যে চরিত্র রাত পেরিয়ে আসে, সে কোনো সাধারণ বুড়ো নয়। সে এক জাদুকর, যে সবার হৃদয়ে ছোট্ট এক মোমবাতি জ্বালায়। যার আলো ভালোবাসা আর আনন্দের।

আরবি/ আরএফ

Link copied!