অমর একুশে বইমেলায় এখন যারা আসছেন, তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। ছোট-বড় সবার হাতেই দেখা যাচ্ছে বই। শেষ সময়ে এসে বিক্রি কিছুটা বাড়ায় প্রকাশকদের মুখেও দেখা মিলেছে স্বস্তির আভা। একই সঙ্গে বড় প্রকাশনাগুলো অনেক নতুন বই নিয়ে আসায় তাদের বিক্রিও বেশ ভালো। ছোট প্রকাশনাগুলোর নতুন বই তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের বিক্রি কিছুটা কমই হচ্ছে।
উত্তরা থেকে এসেছিলেন চাকরিজীবী নাদিরা জাহান। তিনি বলেন, একেবারে শেষ দিকেই এলাম এবারের বইমেলায়। সময় করতে পারছিলাম না কোনোভাবেই, তার ওপর দু-এক দিন পর পর নানা ইস্যুতে অবরোধের ফলে রাস্তার অবস্থা নিয়েও ভাবতে হচ্ছিল।
তাই এত দিন আসা হয়নি। আজ (গতকাল) বইমেলায় আসব বলেই আলাদা করে সময় বের করেছি। বেশ কিছু বইও কিনেছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এবার বইমেলায় সংগ্রহে রাখার মতো উল্লেখযোগ্য বইয়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তবে জুলাই-২৪-এর অনেক বই প্রকাশ পাওয়ায় ভালো লেগেছে।
বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে জানার ঝোঁক বেড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী তথা তরুণদের মাঝে। তারুণ্যের সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে প্রতিবছর বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখকের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বা সায়েন্স ফিকশনের বই।
এবারের বইমেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে বিভিন্ন বয়সের পাঠকরা যেভাবে সায়েন্স ফিকশন খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাতে বলাই যায়, বাড়তি ঝোঁক সৃষ্টি হয়েছে সায়েন্স ফিকশনের ওপর। বইপ্রেমীরা একসময় শুধু গল্প, উপন্যাস আর কবিতায় নিমগ্ন থাকলেও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তথা সায়েন্স ফিকশনে মজেছে এখনকার তরুণ-তরুণীরা।
তারুণ্যের আগ্রহেই বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের বইমেলায় বেশ এগিয়ে গেছে সায়েন্স ফিকশনধর্মী বইয়ের বিক্রি। প্রকাশকরাও জানান, সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বইয়ের প্রতি দিনে দিনে আগ্রহ বাড়ছে তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের।
তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরাও সায়েন্স ফিকশন প্রকাশে আগ্রহী হয়ে উঠেছি। আগে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ হাতেগোনা কয়েকজন সায়েন্স ফিকশনের লেখক ছিলেন, সেখানে এখন সায়েন্স ফিকশনের লেখক বেশ বেড়েছে।
বইমেলায় উল্লেখযোগ্য সায়েন্স ফিকশনের যে বই এসেছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বই হলো-সময় প্রকাশন থেকে ড. হাসিনুর রহমান খানের ‘গ্যালাক্টিক ত্রয়ী’, রাবেয়া বুকস প্রকাশিত আহমেদ বায়েজীদের ‘মহাকাশে দুঃস্বপ্ন’, আফসার ব্রাদার্স থেকে জসীম আল ফাহিমের ‘বিজ্ঞানী মামার কাণ্ডকারখানা’, অনন্যা এনেছে মুহাম্মদ ইব্রাহীমের ‘দুই বুদ্ধি’, র্যামন পাবলিশার্স এনেছে রোকনুজ্জামান রিপনের ‘শেষ জ্যোৎস্না’ ও ড. মো. মনসুর আলীর ‘মহাকাশের সন্ধানে’, অবসর প্রকাশনার হাসান খুরশীদ রুমীর ‘ইভ অব ম্যান’, অনুপম প্রকাশনীর স্বপন কুমার গায়েনের ‘বার্নার্ডের তারা’, এমরান আহমেদের ‘আগন্তুক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী’, ইয়ামিন যোবায়ের ও সাজিদুর রহমানের ‘গল্পে আনন্দে পদার্থবিজ্ঞান’ ইত্যাদি।
এদিকে গতকাল বইমেলার ২৭তম দিনে লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ দিনের মেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় দর্শনার্থীর তুলনায় পাঠকের সংখ্যাই ছিল তুলনামূলক বেশি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ বিনির্মাণ : রাষ্ট্র কাঠামো’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম রনি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সৈয়দ নিজার। সভাপতিত্ব করবেন কাজী মারুফ। এদিন নতুন বই আসে ১৭৬টি। আর এবারের মেলায় এ পর্যন্ত সব ধরনের বই মিলে মোট বই প্রকাশিত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৮টি।
আজকের অনুষ্ঠান
আজ শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।
সমাপনী অনুষ্ঠান
বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৫’-এর সদস্যসচিব ড. সরকার আমিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪, চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।