ঢাকা শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

এ সময়ের কৃষি ও কৃষক

মির্জা হাসান মাহমুদ
প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৫, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি কাজেও আসে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। শীতের বিদায়ের পর গরমের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই দিনের দীর্ঘতায় এবং গরমের তীব্রতা বৃদ্ধিতে কৃষকদের জন্য মাঠের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েই টিকে থাকতে হয় কৃষকদের।

তারা জানেন, এই সময় সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে না পারলে ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। যা শুধু তাদের নয়, পুরো দেশের খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই এই প্রতিকূল সময়েও কৃষকরা মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন; যদিও তা তাদের জন্য সহজ নয়।

গরমে কৃষকের সংগ্রাম
বর্তমান সময়ে কৃষকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় রোজা রেখে কাজ করা। দিনের বেলায় চড়া রোদ আর পানিশূন্যতার কারণে কৃষকদের জন্য মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন আরও কঠিন। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষক মোন্তাজুর রহমান বলেন, ‘সকালে কাজ শুরু করতে হয় খুব ভোরে, কারণ বেলা বাড়লে রোদের তেজও বাড়ে। আর তখন কাজ করা মুশকিল হয়ে যায়। রোজা রেখে কাজ করতে কষ্ট হলেও মাঠের কাজ থেমে থাকে না।’

অন্যদিকে আব্দুল মতিন নামের আরেক কৃষক জানান, গরমের কারণে শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসলের পরিচর্যায় বাড়তি সময় দিতে হয়। তিনি বলেন, ‘এই সময় পানি সংকট বেশি থাকে, নদী শুকিয়ে যায়। সেচের খরচও বেড়ে যায়। অনেক সময় সকালে সেচ দিলেও দুপুরের রোদে মাটি শুকিয়ে যায়। ফলে ফসলের ক্ষতি হয়।’ এ ছাড়া, খরার কারণে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়, ফলে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কৃষকদের অনেক সময় বাড়তি পানি সরবরাহ করতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং শ্রমসাধ্য।

পরিবেশের পরিবর্তন ও কৃষি উৎপাদনে প্রভাব
শীতের পর গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকায় রবি ফসলের ফলন কমতে শুরু করে। চরাঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত বোরো ধান, পেঁয়াজ, মরিচ, গোল আলু, মিষ্টি আলু, কালো জিরা, ভুট্টা, বাদাম, মসুর ডাল ও নানা রকম সবজির চাষ করেন। অনেক ফসলেই প্রচুর পানির দরকার হয়। কিন্তু এ সময়ে নদীর পানি কমে যাওয়ায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং লাভ কমে যায়।

কৃষকদের অভিযোজন ও সম্ভাব্য সমাধান
পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষকদের টিকে থাকতে হয়। এ জন্য তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। যেমন, খুব ভোরে অথবা বিকেলে কাজ করা, যাতে রোদের তেজ কম থাকা অবস্থায় মাঠের কাজ সেরে ফেলা যায়। খরার প্রতিরোধী জাতের ফসল চাষ করা, যা কম পানি ও উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। জৈব চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে মাটির উর্বরতা বজায় রাখা এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো। কৃষি ও পরিবেশ পরস্পর নির্ভরশীল। 

তাই কৃষকদের টিকে থাকার জন্য পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের উচিত কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা বাড়ানো, খরা প্রতিরোধী ফসলের গবেষণা করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে সহায়তা করা। কৃষক টিকে থাকলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখেই কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে, বিশেষ করে এমন কঠিন সময়ে।