আকাশে মেঘের মতো এক চমৎকার শিথিলতার সঙ্গে ঈদ আসে। নাগরিক কোলাহল থেকে বেরিয়ে, আমাদের বেপরোয়া মন এ সময় যেতে চায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। কিন্তু সংশয়ের দ্বার পেরোতে পেরোতেই পেরিয়ে যায় ফুরসতের সময়। সুতরাং দেরি না করে ঈদ ভ্রমণে যেতে পারেন পাহাড়ে। কথায় আছে, পাহাড় মানুষকে শেখায় দুর্গম পথে কীভাবে টিকে থাকতে হয় কিংবা ক্লান্তিকর জীবনে কীভাবে ফেলতে হয় স্বস্তির নিশ্বাস। তাই দীর্ঘদিনের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করতে আপনার জন্য একটি নৈসর্গিক গন্তব্য হতে পারে মেঘচূড়া হিল রিট্রিট।
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় মারায়নতং-এর পাশে অবস্থিত এই রিসোর্টটি প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন। যেখানে পাহাড়ের গায়ে আঁকিবুঁকি কেটে আছে সবুজের সমারোহ, আর সেই সবুজের বুক চিরে বয়ে গেছে মাতামুহুরী নদীর জলরাশি।
যেখানে পাহাড় থেকে ঝিম মেরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে আপনার মনে হবে, জীবন এমন এক প্রেমের বন্ধন, যেখানে নেই কোনো প্রতিযোগিতা; আছে শুধু বিশুদ্ধ বাতাস, নীরবতা আর প্রশান্তি। শুধু এখানেই শেষ নয়, মেঘচূড়ার সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নববধূর রূপের মতো দেখা দেয় সম্পূর্ণ নতুনভাবে, পাল্টে যায় পাহাড়ি মানচিত্র। সকালে দেখা পাহাড়কে বিকেলে আপনার অচেনা লাগতে পারে কিংবা গ্রীষ্মে দেখা পাহাড়কে বর্ষায় দেখার জন্য ছটফট করবে আপনার চঞ্চল হৃদয়।
পুবের আকাশে ভোরের আলো পড়তেই মেঘচূড়ায় শুরু হয় মেঘের আনাগোনা। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ের বুকে ভেসে ওঠে মেঘের সমুদ্র। পাহাড়ে বসে এমন সমুদ্রের অপূর্ব মিতালি যে কারও চোখ ধাঁধিয়ে দেবে খুব সহজেই। এরপর বেলা গড়ালে মেঘ চিরে বেরিয়ে আসা সূর্যের আভা, সন্ধ্যার বাতাসের শান্ত আলিঙ্গন আর মাঝরাতে চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর রূপের জৌলুস অন্তত ছয় মাস ভালো রাখবে আপনার মনকে।
যেভাবে যাবেন: মেঘচূড়া হিল রিট্রিট যাওয়ার জন্য প্রথমে বান্দরবানের আলীকদম যেতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদমের জন্য শ্যামলি, হানিফসহ বেশ কিছু উন্নতমানের বাস সার্ভিস রয়েছে। ভাড়া পড়বে শ্রেণিভেদে ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা। অথবা কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চকরিয়া বাজার পর্যন্ত গিয়ে সেখানকার নতুন বাস টার্মিনাল থেকে আলীকদম যাওয়ার লোকাল বাস এবং চান্দের গাড়ি পাওয়া যায়। সেখান থেকে বাইক বা ট্রেকিং করে মেঘচূড়ায় যেতে পারবেন। তবে অবশ্যই আপনার একটি এনআইডি কার্ডের কপি সঙ্গে রাখবেন।
থাকা-খাওয়ার খরচ: মেঘচূড়ায় প্রতিদিন থাকা-খাওয়ার জন্য তাবুতে খরচ হবে ১১শ এবং জুমাঘরে ১২শ টাকা। তবে ঈদ উপলক্ষে পাবেন ১০ ভাগ ছাড়! খাবারের মেন্যুতে থাকছে দুপুরের লাঞ্চ, সন্ধ্যায় নাস্তা, রাতে বারবিকিউয়ের সঙ্গে পরোটা এবং সকালে ডিম খিচুড়ি।