ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ১১:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২ এপ্রিল, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। পৃথিবীজুড়ে দিনটি পালিত হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সবশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশে অটিস্টিক তথা প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা আনুমানিক দেড় লাখ। বাংলাদেশে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী।

সূত্রমতে, ২০১৩-১৬ সালে দেশে অটিজম শিশুর সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৩২৯ (সূত্র- প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ, সমাজসেবা অধিদফতর ওয়েবসাইট)। চলতি বছরে তা আরও বেড়েছে। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে প্রতিবন্ধী শিশুর হার তিন শতাংশ আর ঢাকার বাইরে দশমিক সাত শতাংশ।

অটিজম কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। শিশুর জন্মের প্রথম দুই-তিন বছরের মধ্যেই এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। অটিজম এমন একটি বিকাশজনিত সমস্যা, যা হলে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য মানুষ বা বিষয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না। এ ছাড়া সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, আবেগেয় বিষয়গুলোও পরিলক্ষিত হয় না।

এর মানে এই নয় যে, অটিস্টিক শিশু বোকা কিংবা মেধাবী নয়। বেশির ভাগ অটিস্টিক শিশু অত্যন্ত সম্ভাবনাময়ী হয়। প্রতি ১০ জন অটিস্টিক শিশুর মধ্যে একজনের ছবি আঁকায়, গানে, গণিতে বা কম্পিউটারে খুবই দক্ষতা থাকে। অটিস্টিক শিশুকে ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারলে পরবর্তী সময়ে সে অনেক গুণী কেউ একজন হয়ে উঠতে পারে। এখন তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো শিশুর অটিজম নির্ণয় হলে অতিদ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সবার সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলার মাঝে, পড়ানোর সময়, সামাজিক বন্ধনে, খেলাধুলার মাঝেও বিভিন্ন বিষয় শেখাতে হবে। হাসি-খুশিতে রাখতে হবে সবসময়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন না করা হলে কিংবা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার না খেলে গর্ভের শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ না হলে শিশু অটিস্টিক হিসেবে জন্ম হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউসিজি) অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, অটিজম কোনো রোগব্যাধি নয়। এটি জন্মগত স্নায়বিক দুর্বলতা। শিশুর জন্মের ২-৩ বছর বয়সের মধ্যে এটির প্রকাশ ঘটে। হাঁটা-চলা, আচার-আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।

তিনি বলেন, আগে অনেকে অটিজম আক্রান্ত শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পাগল বলে মনে করতেন। কিন্তু এখন চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।