ঢাকা রবিবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫

মাসভিত্তিক শাক-সবজি চাষ

আরফান হোসাইন রাফি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতি মাসেই লক্ষ্য করা যায় ঋতু বৈচিত্র্যতা। একেক ঋতুতে একেক ধরনের শাক-সবজি চাষের উপযোগিতা দেখা যাওয়ায় কোন মাসে কী ধরনের শাক-সবজি ও ফল চাষ করবে এই নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকের।

কেউ কেউ অপরিকল্পিত চাষাবাদের কারণে পড়ে অনেক লোকসানে। তাই কৃষিবিদদের মতে, মাসভিত্তিক চাষাবাদে কৃষকের জেনে নেওয়া উচিত কোন মাসে কী ধরনের শাক-সবজি ভালো ফলে। ঋতুভিত্তিক পরিকল্পিত চাষাবাদ খুব কঠিন নয়, সঠিক সময়ে উপযুক্ত ফসল নির্বাচন এবং পরিচর্যা করলে সহজেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এই নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান। তুলে ধরেছেন আরফান হোসাইন রাফি

বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে)
বৈশাখ মাসে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এ সময় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চারা রোপণ করা যায়। এ ছাড়া লালশাক, গিমাকলমি, ডাটা, পাতাপেঁয়াজ, পাটশাক, বেগুন, মরিচ, আদা, হলুদ, ঢেঁড়শ বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

জ্যৈষ্ঠ (মধ্য মে-মধ্য জুন)
জ্যৈষ্ঠ মাসে গ্রীষ্মের শেষ পর্যায় থাকে। এ সময় আগে বীজতলায় বপনকৃত সবজির চারা রোপণ, সেচ ও সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। করলা, শসা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পটল, লাউ, তেজপাতা ও কচু চাষের উপযুক্ত সময়।

আষাঢ় (মধ্য জুন-মধ্য জুলাই)
বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। এ সময় কচু, কলমি শাক, পুঁইশাক, ঢেঁড়শ, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও পটল চাষ করা যায়।

শ্রাবণ (মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট)
বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে পানি সহ্য করতে পারে এমন সবজি, যেমন- কচু, কলমিশাক, পাটশাক, করলা, শসা ও পুঁইশাক ভালোভাবে জন্মে।

ভাদ্র (মধ্য আগস্ট-মধ্য সেপ্টেম্বর)
বর্ষার শেষের দিকে শীতকালীন সবজির জন্য বীজতলা তৈরি উপযোগী। এ সময় বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শালগম, পালংশাক ও লালশাকের বীজ বপন শুরু করা যায়।

আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর)
শরৎকালে শীতকালীন সবজির চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এ সময় ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মূলা, শালগম, গাজর, শিম, পালংশাক ও লালশাক চাষ করা হয়।

কার্তিক (মধ্য অক্টোবর-মধ্য নভেম্বর)
এই সময়ে মূলত শীতকালীন সবজির চারা পরিচর্যা ও নতুন চারা রোপণ উপযোগী। বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মটরশুঁটি, গাজর, বীট, মিষ্টি আলু এবং রসুন চাষের জন্য আদর্শ সময়।

অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর)
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন সবজির ফলন বেড়ে যায়। এ সময় বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মূলা, গাজর, পালংশাক, লেটুসপাতা ও রসুন চাষের উপযুক্ত সময়।

পৌষ (মধ্য ডিসেম্বর-মধ্য জানুয়ারি)
শীতকালীন সবজির চাষের জন্য উপযুক্ত মাস। গাজর, শালগম, মটরশুঁটি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, সরিষাশাক, রসুন ও পেঁয়াজ ভালোভাবে উৎপাদিত হয়।

মাঘ (মধ্য জানুয়ারি-মধ্য ফেব্রুয়ারি)
এ সময় শীতকালীন সবজির শেষ পর্যায়ের পরিচর্যা প্রয়োজন। টমেটো, বেগুন, মরিচ, লাউ, বরবটি, শিম, মিষ্টিকুমড়া ও করলা চাষ শুরু করা যায়।

ফাল্গুন (মধ্য ফেব্রুয়ারি-মধ্য মার্চ)
বসন্তের শুরুতে গ্রীষ্মকালীন সবজির জন্য চারা তৈরি করা যায়। করলা, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়শ, পেঁপে, লালশাক, পালংশাক ও কুমড়া চাষের উপযুক্ত সময়।

চৈত্র (মধ্য মার্চ-মধ্য এপ্রিল)
গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষের উত্তম সময়। ঢেঁড়শ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটল, শসা, বেগুন ও লালশাক বপনের উপযোগী।