নিয়ম মেনে কালোজিরা খেলে উপকারিতা পাওয়া যায়। কালোজিরার উপকার যেমন রয়েছে তেমন অপকারিতাও রয়েছে।
সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে যেমন উপকার তেমনই টানা সাতদিন কালোজিরা খেলে কি হয় সে বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।
কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া যায়। আবার চুলের যত্নে মেথির সাথে কালোজিরা ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেই কালোজিরা কেন খাব অথবা খাবনা...
কালোজিরায় কি আছে? কালোজিরায় বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে যা এর ঔষধি গুণাবলীর জন্য দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে...
থাইমোকুইনন: একটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ।
নিজেলন: একটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল যৌগ।
লিনোলিক অ্যাসিড: একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ফাইবার: হজম উন্নত করতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
ভিটামিন এবং খনিজ: ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি6 এবং আরও অনেক কিছু।
কালোজিরার উপকারিতা
(১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কালোজিরায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি যৌগগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
(২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কালোজিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কালোজিরা সেবন ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে।
(৩) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: কালোজিরা রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এটি রক্ত জমাট বাঁধাকেও প্রতিরোধ করতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
(৪) ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে: কালোজিরায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কালোজিরা কিছু ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে।
(৫) হজম উন্নত করে: কালোজিরা পেটে গ্যাস জমাকে কমিয়ে হজমে সাহায্য করে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
(৬) শ্বাসকষ্টের সমস্যা উপশম করে: কালোজিরা হাঁপানি এবং কাশির মতো শ্বাসকষ্টের সমস্যা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শ্বাসনালীতে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
(৭) ত্বকের যত্নে উপকারী: কালোজিরার ত্বকের ক্ষত সারাতে এবং একজিমা ও সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের অবস্থা উপশম করতে সাহায্য করার কথা জানা যায়। এছাড়া মুখের দাগ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
(৮) চুল পড়া রোধে সাহায্য করে: কালোজিরার তেল চুলের গোঁড় শক্ত করে চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এটি চুল উজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।
(৯) গাঁটের ব্যথা উপশম করে: কালোজিরার তেল গাঁটের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
(১০) মাসিক ঋতুচক্রের সমস্যা লাঘব করে: কালোজিরা অনিয়মিত বা ব্যথার মাসিক চক্রের সমস্যা লাঘব করতে সাহায্য করতে পারে।
কালোজিরার সম্ভাব্য অপকারিতা
এক গবেষণা বলছে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের কালোজিরা এড়িয়ে চলা উচিত।
(১) অ্যালার্জি: কিছু লোকের কালোজিরা অ্যালার্জি থাকতে পারে। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ফুসকুড়ি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং মুখ ও গলার ফোলাভাব। যদি আপনার এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনটি দেখা দেয় তাহলে কালোজিরা খাওয়া বন্ধ করুন এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
(২) রক্ত পাতলাকারক ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া: কালোজিরা রক্ত পাতলা করতে পারে। আপনি যদি রক্ত পাতলাকারক ওষুধ খান, তাহলে কালোজিরা খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
(৩) ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া: কালোজিরা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাহলে কালোজিরা খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন কারণ এটি আপনার ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।
(৪) অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক: কিছু লোকে কালোজিরা খাওয়ার পর পেট খান, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়া হতে পারে।
উচ্চ মাত্রায় কালোজিরা খাওয়া কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :