বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

চুইঝাল কেন খাবেন, জানুন উপকারিতা

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম

চুইঝাল কেন খাবেন, জানুন উপকারিতা

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

খুলনা অঞ্চলের মানুষের জন্য চুইঝাল একটি জনপ্রিয় মসলার নাম। এই বিশেষ ধরণের মসলা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং এর রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। চুইঝাল মূলত পিপার পরিবারের একটি গাছ থেকে সংগৃহীত হয়।

চুই সাধারণত দুই রকমের। একটির কাণ্ড বেশ মোটা ২০-২৫ সেন্টিমিটার, অন্যটির কাণ্ড চিকন। এটি আকারে ২.৫ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছ ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত ও ছায়াময় উঁচু জমিতে সাধারণত চুই চাষ করা হয়।

খুলনাঞ্চলে চুইয়ের আবাদ ও এর বাজার এখন বেশ লাভজনক। চুইয়ের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে শহর ও শহরের বাইরে অগণিত হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। চুইঝালের গরু কিংবা চুইঝালের খাসি—এই নামেই কয়েকটি রেস্তোরাঁ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

প্রতিদিন খুলনার বিভিন্ন এলাকায় তো বটেই, দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব খাবারের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন ভোজনরসিক মানুষ।

চুইয়ের বিশেষত্ব হলো, এটি স্বাদে ঝাল। তবে ঝালটার আলাদা মাদকতা আছে। খুব তীব্র নয়, ঝাল ঝাল ভাব। এই ভাবটাই চুই খাওয়ার পর স্বাদটাকে আরও বেশি রসময় করে তোলে।

এই স্বাদ-গন্ধ, ঐতিহ্য সবমিলিয়ে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, সবখানেই সমান কদর বিশেষ ধরনের এই মশলাটির।

চুই গাছ দেখতে অনেকটা পানের লতার মতো। এর পাতায় ঝাল নেই। এর শিকড়, কাণ্ড বা লতা কেটে টুকরো টুকরো করে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

দেড় থেকে ২ ইঞ্চি টুকরা করে কেটে সেটা মাঝখান দিয়ে ফালি করে খাবার রান্নার একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটা ব্যবহার করতে হয়। রান্নার পর কিছুটা গলে যাওয়া চুইয়ের টুকরো চুষে বা চিবিয়ে খাওয়া হয়। স্বাদ-ঘ্রাণ বাড়াতে আর ক্রেতাদের মন জোগাতে খুলনার হালিম, ঝালমুড়িতেও আজকাল বেশ ব্যবহার হচ্ছে চুইয়ের।

চুইঝাল খাওয়ার উপকারিতা

চুইঝাল হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। চুইঝালের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

বাত ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় চুইঝাল প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তারা চুইঝালকে তাদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

ত্বক এবং চুলের জন্যও চুইঝাল বেশ উপকারী। পিপারিনের উপস্থিতির কারণে চুইঝাল শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। হার্টের জন্য বিশেষ উপকারী হতে পারে, কারণ ভালো রক্ত সঞ্চালন হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

কিছু গবেষণা অনুযায়ী, চুইঝাল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের অন্যতম কারণ। চুইঝাল হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকলে অপুস্টি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।  

আরবি/এসএমএ

Link copied!