অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছিল, যার ফলে অপচয় মোকাবিলার জন্য বর্তমানে ট্যাক্স বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরামের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে তারা। বর্তমান জায়গায় আসা চ্যালেঞ্জ ছিল। মূল হচ্ছে এনার্জি। এটা ঠিক না হলে অর্থনীতির চাকা এগোয় না। এই খাতে পুরোটা ডাকাতির বন্দোবস্ত হয়েছিল দাম বাড়াতে বাড়াতে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের হাতে টাকা নেই, কিন্তু ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রতিটির ব্যয় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ছিল। অথচ পাড়ার লোকেরা মাত্র ৩ কোটি টাকায় সেগুলো তৈরি করতে পারতো। প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৭০% বেশি দেখানো হয়েছে, যা ছিল চুরির ব্যবস্থা।
শফিকুল আলম আরও বলেন, “২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাইরে চলে গেছে। যদি দেশে থাকতো এবং রিইনভেস্ট করা হতো, তাহলে কিছু উপকার হত। তবে এখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।”
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, “মূল্যস্ফীতি দুই মাস ধরে কমছে এবং আগামী জুনে এটি ৭%–এ নেমে আসবে। এতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।”
প্রেস সচিব বলেন, “কর্ণফুলী টানেল আমাদের অর্থনীতির জন্য এখন প্রয়োজন ছিল কি না? হয়তো ১০ বছর পর প্রয়োজন হতো। তবে অপচয় মোকাবিলা করতে আমাদের এখন ট্যাক্স বাড়াতে হচ্ছে।”
তিনি দেশের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বলেন, “যদি পরিস্থিতি ঠিক থাকে, তবে বড় বড় কোম্পানিগুলো এই দেশে বিনিয়োগ করবে। এ সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বাড়ানোর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।”
শফিকুল আলম বলেন, “দুর্নীতি মোকাবিলায় ডিজিটালাইজেশন জরুরি। পেপারলেস কাজের মাধ্যমে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে।”