আগামী মার্চ মাস থেকে ‘জুলাই শহীদ’দের পরিবার ও ‘জুলাই যোদ্ধা’রা ভাতা পেতে শুরু করবেন, জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এছাড়া, এককালীন ভাতার একাংশ আগামী জুন মাসের মধ্যে দেওয়া হবে, এবং বাকি অংশ আগামী অর্থবছরে পরিশোধ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় জুলাই শহীদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্ত সুবিধাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। গত ৯ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এবার থেকে জুলাই শহীদদের মধ্যে গণঅন্দোলনে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তারা এই উপাধি লাভ করবেন এবং যাদের আহত হওয়ার কারণে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়েছে, তারা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত হবেন। আহতদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে—এ, বি, সি। মেডিকেল কমিটির মাধ্যমে আহতদের অবস্থা পর্যালোচনা করে এই ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তাদের পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মধ্যে ১০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে, এবং আগামী অর্থবছরের বাকি ২০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন এবং পরিবারের সক্ষম সদস্যরা সরকারি বা আধাসরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন।
এছাড়া, ‘এ’ ক্যাটাগরির জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে যারা অতি গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা ৪৯৩ জন। এদের এককালীন ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে ২ লাখ টাকা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে এবং বাকি ৩ লাখ টাকা আগামী অর্থবছরে দেওয়া হবে। এরা মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, এবং প্রয়োজনীয় কর্মপ্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন সুবিধা ও পরিচয়পত্র পাবেন।
‘বি’ ক্যাটাগরির ৯০৮ জন গুরুতর আহত যোদ্ধা এককালীন ৩ লাখ টাকা পাবেন। চলতি অর্থবছরে ১ লাখ টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ২ লাখ টাকা পাবেন। তাদের মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা, কর্মসহায়ক প্রশিক্ষণ, সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার এবং পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
‘সি’ ক্যাটাগরির ১০,৬৪৮ জন যোদ্ধা এককালীন ১ লাখ টাকা, মাসিক ১০ হাজার টাকা, পুনর্বাসন সুবিধা এবং পরিচয়পত্র পাবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপ প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহমদ ফয়েজ।
আপনার মতামত লিখুন :