ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের মতো কিছুই হয়নি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে কোনো জঙ্গিবাদসংক্রান্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন থানা পরিদর্শন শেষে ঈদের শুভেচ্ছা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রথমে সরকার ছিল না, তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। এখন সবাই একত্রে চেষ্টা করছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে করা হত্যা মামলায় অনেক নিরীহ মানুষের নামেও মামলা দেওয়া হচ্ছে যাদের নাম এজাহারে নেই—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি সত্য। এমনও অনেকে আছেন যাদের এজাহারে নাম আছে কিন্তু জড়িত নন। এমন অনেকেই ছিল যারা তখন দেশের বাইরে ছিলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা প্রপার তদন্ত করছি এবং নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হবে না। শুধু থানার তদন্ত নয়, এটার জন্য আলাদা কমিটিও করা হয়েছে। যেন কোনোভাবেই নিরীহ লোকজন সাজা না পায়। সেই সঙ্গে কোনো দুষ্কৃতকারীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। মঙ্গলবার সিএ প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে—এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে প্রেস উইং বলছে, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

সিএ প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুলভাবে চিত্রিত বাছাইকৃত উসকানিমূলক উদাহরণের ওপর নির্ভর করার চেয়ে বরং পরিস্থিতির জটিলতা এবং গত এক বছরে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে তার স্বীকৃতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেস উইং আরও বলছে, যদিও নিবন্ধটি ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, তবে এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের জন্য বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অথচ নিবন্ধে এর উল্টোটা বলা হয়েছে।