প্রায় চার দশক আগে বাংলাদেশে বিয়ে হয় ভারতের জলপাইগুড়ির মহিলা বেগমের। তবুও সীমানা রেখা আটকাতে পারেনি পরিবারের প্রতি তার ভালোবাসা। প্রায়ই তিনি ভারতে যেতেন বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে। তবে সম্প্রতি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং ভিসা জটিলতায় বাবা-মায়ের সাক্ষাৎ পাচ্ছিলেন না মহিলা বেগম।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে স্বামী ও স্বজনদের নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মহিলা বেগম। সেখানে শতবর্ষী বাবা ও মেয়ের ভালোবাসাময় এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হৃদয় ছুঁয়ে যায় সবার।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফের উপস্থিতিতে দুই পাশ থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন বাবা ও মেয়ে, সঙ্গে অন্য স্বজনেরা। কাছে গিয়ে বাবা-মেয়ে প্রথমে হাতে হাত রেখে স্পর্শ করার পর শতবর্ষী বাবা মেয়েকে বুকে টেনে নেন। এ সময় মহিলা বেগমের মাসহ অন্যদের কান্না করতে দেখা যায়।
গত শনিবার (১ মার্চ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় বাবা-মেয়ের হৃদয়স্পর্শী সাক্ষাৎ ঘটে। এ সময় মহিলা বেগমের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী নজমুল হকসহ (৭৫) স্বজনেরা। ভারত থেকে এসেছিলেন তাঁর বাবা সপিজ উদ্দিন (১০৭), মা অফিলা খাতুনসহ (৯০) স্বজনেরা।
মহিলা বেগম বলেন, অনেক দিনে ধরে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে ভারত। মা-বাবাকে দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল। ওই দিন মা-বাবাকে এভাবে সীমান্তে দেখে কলিজায় আগুন ধরে গেছে। বয়স্ক মা-বাবাকে এভাবে অল্প সময়ের জন্য দেখে কষ্টটা আরও বেড়ে গেছে।
এদিন বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বাবা-মেয়ের চোখের জল এক অন্য রকম অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনায় যে কেবল দুই পরিবারের মিলন হয়েছে তা নয়, এই ঘটনা দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভালোবাসা, সম্মান ও আবেগের প্রতীক। বিজিবি এবং বিএসএফ এই ভালোবাসার মেলবন্ধন বজায় রাখতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।